(দিনাজপুর২৪.কম) মানব জাতির প্রয়োজনে আবিষ্কারের শেষ নেই। আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় জার্মানির বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির কৃত্রিম সূর্য। উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেখানে সূর্যের আলোর দেখা পাওয়া দুষ্কর সেখানে এই কৃত্রিম সূর্য নিরবিচ্ছিন্ন কৃত্রিম আলো দিতে সক্ষম। সূর্যের তুলনায় এই কৃত্রিম সূর্য ১০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী বলেও জানিয়েছেন তারা। মানবদেহের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ-প্রতঙ্গ থেকে শুরু করে প্রাণীর ক্লোন পর্যন্ত আবিষ্কার করেছে বিজ্ঞানীরা। জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে রোবট। এবার আবিষ্কার হলো কৃত্রিম সূর্য।
সকল প্রাণি জগতের জন্যই সূর্যের উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিদিন সূর্যের আলো একইভাবে তাপ কিংবা আলো ছড়ায় না আর যার কারণেই প্রায় অনেক সময় বাধাগ্রস্থ হয় মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড। সোলার প্যানেলের মূল খাবার আসে সূর্যের আলো থেকে। ফলে পৃথিবীর যেসব দেশে সূর্যের দেখা পাওয়াই কঠিন সেসব দেশ রীতিমত বিপদে পড়েন। সে সঙ্কট নিরসনের জন্য জার্মানির বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন কৃত্রিম এক সূর্য। যাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম কৃত্রিম সূর্য।সর্ববৃহৎ কৃত্রিম সূর্য উদ্ভাবন করল জার্মানি
কৃত্রিম সূর্য উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানীদের এই দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জার্মানির ইনস্টিটিউট অব সোলার রিসার্চের প্রধান ড. কাই উইগ হার্ট। তিনি বলেন, ‘এই সূর্যের মাধ্যমে আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কৃত্রিম আলো পাবো। যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে পশ্চিম জার্মানির মতো জায়গায় যেখানে প্রতিদিন সূর্যের দেখা পাওয়া যায় না এবং আবহাওয়া খুব একটা ভালো থাকে না’।
এই সূর্যে ১৪৯টি ফিল্ম প্রজেকশন লাইট একত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এই লাইট থেকে আলো প্রক্ষেপণ করা হলে এর সম্মিলিত আলো প্রতিদিন সূর্যের যে রশ্মি পৃথিবীতে আলো ছড়ায় তার থেকে ১০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এই আলোর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আগামী দিনের সোলার বা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছেন।
ড. কাই বলেন, ‘এটা আমাদের প্রথম নিরীক্ষাগুলোর একটি। যেটি খুবই সাধারণ আর প্রথাগত। এটাকে সোলার হাইট্রোজেন রিয়েক্টারও বলা যায়। এই রিয়েক্টারের মাধ্যমে সৌরশক্তি ব্যবহার করে আমরা পানিকে ভাগ করে ফেলার প্রক্রিয়া তৈরি করছি। এর ফলে আমরা শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারবো এবং সেটিকে সামনের দিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। নির্দিষ্ট কোন দিকে আলো প্রক্ষেপণ করলে সেটি কোন এলাকাকে প্রায় ৩ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস পযন্ত উত্তপ্ত করে তুলতে পারবে। যা যেকোন বৈদ্যুতিক চুল্লির চেয়ে বেশি’।
কৃত্রিম সূর্যটি যে বিশাল যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে তার উচ্চতা তিন তলা একট ভবনের সমান। সেখানে ১৪০ জেনন সর্ট আর ল্যাম্প জ্বলছে। এর ফলে তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেহেতু হাইড্রোজেন পুড়লে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় না তাই ভবিষ্যতে হাইড্রোজেনকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হবে। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম সূর্যের মাধ্যমে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন উৎপাদন করা সম্ভব তা কেবল জ্বালানি হিসেবে নয়, ব্যবহার করা যাবে শিল্পখাতেও। অর্থাৎ শিল্প উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এই সূর্য। এর ফলে অর্থনৈতিক সামর্থ্য কমে যাওয়া নিয়ে বিশ্বের দেশগুলোতে যে আশঙ্কা আছে তারও সমাধান হবে। -ডেস্ক