pic1(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে। ফুলের সঙ্গে কোটি কোটি মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠছে গোটা এলাকা। কৃষি অফিস ও এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে। জানা গেছে, প্রতি বছর উপজেলায় এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে সরিষার আবাদ হয়। ফলনও হয় বেশ ভালো। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নামেন সরিষার আবাদ করতে। এক সময় বোনা আমন ধান, মাছ আর পানি ছাড়া কিছুই পাওয়া যেতো না। কালের পরিবর্তে আমন ধানের বিকল্প হিসেবে বোরো ধানের চাষ শুরু করেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। নদী তলদেশে যাদের অবস্থান সেই সব কৃষক কখনো সরিষার আবাদ করার কথা ভাবতেন না। বর্তমানে প্রায় ৬ বছর ধরে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় উপজেলার বুকে বাম্পার সরিষার আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে সরিষার গাছে ফুলের সমাহার। কৃষকরা আশা করছেন কোনো রোগবালাই না হলে এবার চলনবিলে বাম্পার সরিষার ফলন হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে ব্যাপকহারে সরিষার চাষ হয়েছে। উপজেলার রামেশ্বপুর গ্রামের কাজেম উদ্দিন, বাবলু নামের কৃষকেরা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার রোগবালাই দেখা দেয়নি। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৬ মণ হারে সরিষার ফলন হবে। তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেশনা কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি সরিষা -৯, বারি সরিষা -১০ ফলন আরো বেশি হতে পারে। সরিষার আবাদের পরই জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা যায়। এক সময় বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়াতে শুধুমাত্র বোরো ধানের আবাদ করতাম। বর্তমানে মাঠে সরিষা ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে। সরিষার আবাদ ঘড়ে তোলার পর ওই জমিতেই আবার কম সারে বোরো ধানের চাষ করা যায়। তাই ঘোড়াঘাট কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে সরিষার চাষ করে আসছে। সরিষার জমিতে বোরো ধানের চাষ করতে বেশি সারের প্রয়োজনহয়না। গত ৫ বছর ধরে আমরা নিচু জমিতে সরিষার আবাদ করছি। বর্তমানে সরিষা চাষে ১ বিঘা জমিতে ৮শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ যদি ঠিকমতো সরিষা ঘরে তোলা যায় তাহলে ৫/৬ মণ সরিষা ঘরে ওঠে। বাজারে বর্তমান সরিষার দাম ভালো পাওয়া যাবে। ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকতা জানান,  এবার বাম্পার সরিষার আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষককে একের অধিক ফসল ফলানোর জন্য নানাভাবে উৎসাহিত করছি। -মনোরঞ্জন মোহন্ত