(দিনাজপুর২৪.কম)সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাসহ তিনটি উপজেলার কৃষকেরা সরিষার স্বপ্ন বুনছে। গত বছরের চেয়ে এবার সব চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে এ তিনটি উপজেলায়  প্রতান্ত প্রায় সব জায়গায়। ভাল ফলনের পাশাপাশি ভাল দাম পাওয়ার আশায় কৃষক এখন শুধুই স্বপ্ন বুনছে।
রায়গঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রায়গঞ্জ উপজেলায় গত বারের চেয়ে ১৫ লক্ষ ২০ হাজার  হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধরণ করা হয়েছে গত বছরের চেয়ে বেশি।
সবচেয়ে বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে উল্লাপাড়া উপজেলা। এই উপজেলায় ১১হাজার ১০হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তাড়াশ উপজেলায়ও  কম আবাদ হয়নি। কোনো কোনো অঞ্চলে আগাম সরিষা তোলারমত হয়েছে। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে মাঠে মাঠে হলুদে হলুদে ভরে গেছে প্রকৃতি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষা ক্ষেত লক লক করে বেড়ে উঠছে। এমন কি অনেক ক্ষেত পেকেও গেছে। ফসল ঘরে ওঠার সময় বর্তমান বাজার অনুযায়ী কৃষকেরা দাম পেলে তারা এবার বাড়তি দুটো পয়সার মুখ দেখবে। এমনটাই আশা করছেন সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলার প্রত্যন্ত  অঞ্চলের কৃষকেরা। সলঙ্গা থানার গোজা গ্রামের সরিষা চাষি আব্দুর রহিম জানান, তাদের সরিষা আর ১৫ – ২০ দিনের মধ্যই ঘরে উঠবে। গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এবারও সে সরিষা আবাদ করছেন। সে আরো জানান, সরিষা আবাদে অন্যান্য ফসলের চেয়ে উৎপাদন ব্যয় অনেক কম এবং লাভ বেশি। মাত্র ৪টি চাষ দিয়ে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। এছাড়া দু বার পানি ও একবার সার দিয়েই সরিষার আবাদ করা যায়।
৯০ – ১০০ দিনের এই ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন পাওয়া যায় এক ৪০০ কেজি।  নভেম্বরের প্রথম থেকেই এই ফসল বপন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সরিষা ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় ফলন পাবেন সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ সরিষা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার ওপরে।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপসহকারি কর্মকর্তা আব্দুৃল হাই জানান, গত বছর বন্য ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষার আবাদ কম হয়েছিল। এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনূকূলে থাকায় সরিষার আবাদ গত বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। আশা করি কৃষকরা ভাল দামও পাবেন।