(দিনাজপুর২৪.কম) ডাক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিটিআরসিতে বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধ দমনে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে অসংখ্য সরকার বিরোধী ও ধর্ম বিরোধী কনটেন্ট আইআইজির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ফেসবুকের বিভিন্ন আপত্তিকর কনটেন্ট বন্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তা অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তারানা হালিম বলেন, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় আইনগত, কারিগরি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। বিভিন্ন পাঠ্যক্রমে আইসিটি শিক্ষার অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা অন্তর্ভূক্তির পাশাপশি এ বিষয়ে পিতা-মাতা-অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।

৮ বছরে মোবাইল গ্রাহক দ্বিগুণের বেশি
মো. নবী নেওয়াজের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, গত সাড়ে আট বছরে দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক বেসরকারি কোম্পানির তুলনায় বিস্তৃত না হওয়ায় তুলনামূলকভাবে এর গ্রাহক সংখ্যা কম। কিন্তু টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেই- এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

প্রতিমন্ত্রী এসময় জানান, ২০০৯ সালে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার জন। ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার জনে।

অবৈধ ভিওআইপির জন্য বিটিসিএলকে দায়ী করা যায় না

সরকারি দলের সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ডাক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলরেট হ্রাস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ ভিওআইপির পাশাপাশি ওটিটি অ্যাপসের ব্যবহার আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের পরিমাণ হ্রাসের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একইসঙ্গে তিনি সংসদকে জানান, বৈদেশিক কলের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রাইভেট আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স এবং মোবাইলে বা প্রাইভেট ফোন অপারেটরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তাই দেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার জন্য বিটিসিএলকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী করা যায় না। বিটিসিএল অবৈধ ভিওআইপি কলের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তাছাড়া বিটিসিএল অবৈধ ভিওআইপির বিষয়ে নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

এসময় তিনি আরও জানান, অবৈধ ভিওআইপির জন্য বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে থাকে। কিন্তু এই অবৈধ ব্যবসার দরুণ সরকারের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধে বিটিআরসি থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। -ডেস্ক