এম.আহসান কবির, বার্তা সম্পাদক (দিনাজপুর২৪.কম) দেশীয় অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়ন ও পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের চাহিদা উত্তোরত্তর বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইতোমধ্যে নির্মিত সেতু সমূহ পুনঃনির্মাণ ও ক্ষেত্র বিশেষে পুরাতন সেতুর পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে জাইকা বাংলাদেশে পশ্চিমাঞ্চলে ১০৬টি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর উপর একটি সম্ভব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রংপুর জোনে ১৯টি, রাজশাহী জোনে ১৬টি গোপালগঞ্জ জোনে ৭টি, খুলনা জোনে, বরিশাল জোনে ৯টি এবং নরসিংদী অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১টি সেতু সহ মোট ৬১টি সেতু নির্বাচন করে এ প্রকল্পের জন্য ১টি ডিডিপি প্রনয়ন করে। প্রকল্পটির মুল উদ্দেশ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন, যানবাহন চলাচল সহজ ও ত্বরানিত করন। সড়ক ব্যবহারকারীদের ভ্রমনের সময় ও ব্যয়ভার হ্রাস করণের পাশাপাশি ভবিষ্যত শিল্প প্রতিষ্ঠায় অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করণ। এ লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে গত ১০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় “ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রীজ ইমপ্রুফমেন্ট প্রজেক্ট” শীর্ষক প্রকল্পটি ১৩ ডিসেম্বর-২০১৫ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি (জাইকা)’র মধ্যে (বিডি-পি-৮২) একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ১,০০৬.৫৬ কোটি টাকা ও জাইকা ১,৯০৫.১৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় বহন করবে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল নির্ধারিত হয়েছে অক্টোবর ২০১৫ হতে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটিতে ২২০.২৩ কোটি টাকার চুক্তিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে OCG-OC-KEI-SMEC JV IN ASSOCIATION WITH BCL-ACE- SARMSTRATEGI কে। এ প্রকল্পের আওতায় জাতীয় মহাসড়কে ১০.৪০ মিটার আঞ্চলিক মহাসড়কে ১০.৪০ মিটার ও জেলা সড়কে ৯.৮০ মিটার মিলিয়ে ৬১টি সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪.৭১৫ মিটার। এ প্রকল্পের এ্যাপ্রোচ সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৪২ কিলোমিটার। সেতুগুলোর নির্মাণ ধরণ হবে প্রি-স্ট্রেড কনক্রিট ও ওয়েদারিং স্টিল গার্ডার সেতু। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজ)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রংপুর জোনে ৫৪৬.৯৮ কোটি টাকায় ২৬ মাসে ১৩৭২ মিটার দৈর্ঘ্যে ১৯টি সেতু নির্মাণ করবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনিকো-সিপিসি জয়েন্ট ভেনচার এর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। প্রকল্পের প্যাকেজ নং PW-01 এর আওতায় কার্য্যাদেশ লাভ করার পর স্বনামধন্য নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মনিকো-সিপিসি জয়েন্ট ভেনচার রংপুর জোনের ১৯টি ব্রীজের যে সব সড়কে এই সেতুগুলো নির্মাণ করবে এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া জেলার বগুড়া-ধুনট সড়কে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যে খোট্টাপাড়া সেতু ও গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ৮০ মিটার মহাস্থান সেতু। জয়পুরহাট জেলার মহাদেবপুর সড়কে ১৪০ মিটার মঙ্গলবাড়ি কুঠিবাড়ি সেতু ও বগুড়া-জয়পুরহাট সড়কে ৬৪ মিটার বটতলী সেতু। রংপুর জেলার সৈয়দপুর-দিনাজপুর সড়কে ১৪৫ মিটার বারাতি সেতু, রংপুর-সৈয়দপুর সড়কে ৩০ মিটার খারুয়াভাজ সেতু, রংপুর-সৈয়দপুর-দিনাজপুর সড়কে ২৫ মিটার নাংটিছিড়া সেতু এবং রংপুর জেলার রংপুর-সৈয়দপুর-দিনাজপুর সড়কে ২০ মিটার শ্যামপুর বক্স কালভার্ট। দিনাজপুর জেলার রংপুর-বাংলাবান্ধা সড়কে ৫৫ মিটার গাওডাঙ্গী সেতু, বীরগঞ্জ-খানসামা-দারোয়ানি সড়কে ৫০ মিটার ছোট ঢেপা সেতু, পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কে ৫০ মিটার বন্দরের পুল সেতু, পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কে ৮০ মিটার গর্ভেশ্বরী/ গাবুড়া সেতু, পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কে ৯৬ মিটার মাদারগঞ্জ সেতু এবং পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কে ১৬৫ মিটার কাঁকড়া সেতু, গাইবান্ধা জেলার বগুড়া-গোবিন্দগঞ্জ-রংপুর সড়কে ৪০ মিটার গুপিনাথ সেতু, বগুড়া-গোবিন্দগঞ্জ-রংপুর সড়কে ১৭১ মিটার কাটাখালি সেতু, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা সড়কে ৫০ মিটার চাওয়াআই সেতু, পঞ্চগড় জেলার ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কে ৩০ মিটার পথরাজ সেতু ও নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহর পুরাতন সড়কে ৫০ মিটার খড়খড়ি সেতু সহ রংপুর জোনে মোট ১৩১৭ মিটার সেতু নির্মিত হবে। সড়ক ও জনপদ অধিপ্তরের এ প্রকল্পের রংপুর জোনের প্রজেক্ট ম্যানেজার-১ (EE,RHD), WBBIP (রংপুর পার্ট) নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ মহসিন হাওলাদার দিনাজপুর২৪.কম কে জানান, ইতিমধ্যেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনিকো-সিপিসি জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি এ প্রকল্পের ১৯টি সেতুর মধ্যে ১ম পর্বে ৯টি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এ পর্যন্ত শতাধিক পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পণ্যের জন্য হাইড্রোলিক রিগ, ব্যাচিব প্লান্ট, ট্রাফিট মিক্সার ইত্যাদি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে যা এ অঞ্চলে উদাহরণ স্বরূপ উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনিকো-সিপিসি জয়েন্ট ভেনচার এর নির্বাহী পরিচালক দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে।