(দিনাজপুর২৪.কম) রোহিঙ্গা ইস্যুতে দলীয় রাজনীতি না করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত সরকার রোহিঙ্গাদের কোনো ত্রাণ দেয়নি। বিদেশ থেকে যেসব ত্রাণ সামগ্রি আসছে সেগুলো বিলি-বন্টন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সারাদেশ থেকে সাধারণ মানুষ যেসব ত্রাণ সামগ্রি জমা দিচ্ছেন সেগুলো বিলি বন্টন করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে সেনাবাহিনীর কর্মপরিধি বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহবান জানান।
তিনি বলেন, ত্রাণ নিয়ে বা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে আমরা কোনো দলীয় রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান। কিন্তু সরকারের এই ব্যাপারে কোনো আন্তরিকতা নেই। তারা এই সমস্যা সমাধান কতটুকু সঠিকভাবে করতে চায় সেই ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

অনেকে অনেক কথা বলছে, আমরা সেই কথা বলতে চাই না- নোবেল পুরস্কারের কথা বলেছেন, অন্যান্য সুবিধার কথা বলছেন। আমরা বলতে চাই, আন্তরিকতার সাথে সমস্যা সমাধান করুন। বিভেদ না করে, বিভক্তি না এনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের সকল অভ্যন্তরীন শক্তিগুলোকে এক করে মিয়ানমারের চাপিয়ে দেয়া এই যে সঙ্কট, এই সঙ্কট মোকাবিলায় একটা জাতীয় ঐক্যের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। এটাই হচ্ছে আমাদের আহবান।
মিয়ানমারকে সমর্থনকারী দেশ রাশিয়া, চীন ও ভারতে বিশেষ দূত প্রেরণের পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদেরকে পরিস্থিতি বুঝিয়ে এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। আমরা এই কথা বলেছি, প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত, চীন ও রাশিয়া যাওয়া উচিৎ তারা যেন কোনো নেতিবাচক অবস্থান না নেন। আমরা একথাও বলেছি যে, নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় তখন যেন রাশিয়া ও চীন ভিটো দিতে না পারে সেজন্য কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহবানও জানিয়েছি। এজন্য বিশেষ দূত পাঠানোর কথাও বলেছি।
তিনি বলেন, আমরা চাই, যারা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছেন তাদেরকে সাময়িক আশ্রয় দেয়া এবং তাদেরকে নাগরিকত্ব দিয়ে স্বসন্মানে নিজের দেশে নিয়ে যায় তারপর মিয়ানমার সরকারের ওপর কুটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। এই ইস্যুতে বিশ্বজনমত সৃষ্টির জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এটাই আজ প্রধান বিষয়। দুর্ভাগ্য যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মন্ত্রীরা এমন এমন কথা বলেছেন, যার প্রয়োজন নেই, এটাকে নিয়ে বির্তক সৃষ্টি করার প্রয়োজন নেই। তাদের কথায় আমরা দুঃখিত হচ্ছি, দেশের মানুষও দুঃখিত হচ্ছে।
মিয়ানমার সেনা বাহিনীর অভিযান ও রোহিঙ্গাদের গণহত্যার ঘটনার পর পালিয়ে আসা নারী-শিশুদের সীমান্তে বাঁধা প্রদানে সরকারের নেয়া ভুমিকারও সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের পক্ষে দেশে ও বিশ্বজনমত সৃষ্টি হলে পরেই সরকার তার অবস্থান পাল্টায়।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপি ২২ ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সরকারের বাঁধা প্রদানের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা পরে ওইসব ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করেছি। আমাদের দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এখন একটা কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।
জেলার সার্কিট হাউজ সড়কে জেলা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য বিএনপি মহাসচিব কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কক্সবাজার যান। তিনি উখিয়া, টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরসমূহ পরিদর্শন ও ত্রানসামগ্রি বিতরণ করেন। উখিয়ায় সেনাবাহিনী ত্রানভান্ডারে দলের পক্ষ থেকে দুই ট্রাক ত্রানসামগ্রিও দেন মির্জা ফখরুল। রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা ও তার কর্ম পরিধি বাড়ানোর দাবি করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ত্রান কাজে সেনাবাহিনী মোতায়েন করায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকুন। আমরা বলেছি, সেনাবাহিনী কর্মপরিধি আরো বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
আমরা খবর পেয়েছি, প্রায় ১৪ হাজার সেড নির্মান করা হবে তাদের আবাসনের জন্য। এরমধ্যে ৪ হাজার সেনাবাহিনীকে দেয়া হচ্ছে বাকী ১০ হাজার সরকার তৈরি করবে। আমরা জানি যে এই সরকার কিভাবে নির্মান করবে সেটা সম্পর্কে দেশবাসী ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। আমরা দাবি জানাতে চাই, সেনাবাহিনীকে এই কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নের জন্য নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলে মনে করি। বিএনপি তার সামর্থ অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমান খান কাজল, শরীফুল আলম, হারুনুর রশীদ হারুন, শায়রুল কবির খান, কক্সবাজার জেলা সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক