-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস দীর্ঘায়িত হওয়ায় সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এই ভাইরাস কত দিন থাকবে এবং পরিস্থিতি কোথায় নিয়ে যাবে, তা কেউই সঠিকভাবে বলতে পারছে না। যদিও করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে এই কর্মসূচি কত দিন টেনে নিয়ে যাওয়া যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত অনেকেই।

এর সঙ্গে বাড়তি দুশ্চিন্তা যোগ হয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মহীনতা ও বন্যার ক্ষতি মোকাবিলা। কর্মহীনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মহীনতার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এতে সামগ্রিক উত্পাদন ব্যাহত হবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে তা মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে এক যোগে কাজ করা এবং মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে না দেওয়াই হবে সামনের দিনগুলোতে সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

সবকিছুকেই বড় ধাক্কা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে সরকার যখন নানামুখী প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই হানা দিয়েছে বন্যা; যা করোনার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে যোগ হয়েছে। এতে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান হারিয়ে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পাশাপাশি কর্মসক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে উত্পাদন ও বিপণন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

করোনায় মৃত ও আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে সামনে আরো কঠিন সময় আসছে বলে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আশঙ্কা করছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে দলটি। কিন্তু সোয়া এক বছর যেতে না যেতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারকে অনেকটাই অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘করোনা দুর্যোগকে ঘিরে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার শেষ নেই। তবে সৃষ্ট সংকট ধৈর্য্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এ ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তা ২ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৮ জুলাই। আর গত ১৭ জুলাই আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যায় মৃত্যু।

আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিনিধি। তাদের কথাবার্তায় দুশ্চিন্তার চিত্রটি স্পষ্ট। তারা বলছেন, ‘অদৃশ্য শত্রু করোনা মোকাবিলা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। সরকার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মানুষ ও অর্থনীতি বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। তবে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। করোনা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’

তবে করোনার কাছে হার না মানার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৫ জুন এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমরা হার মানব না। মৃত্যু যে কোনো সময় যে কোনো কারণে হতে পারে। কিন্তু তার জন্য ভীত হয়ে হার মানতে হবে?’

করোনার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত ৬৪টি নির্দেশনা দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় পৌনে ২ কোটি পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৭ কোটি ৪১ লাখ ৩২ হাজার ৩১২ জন। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে মে মাসে এককালীন ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে পৃথিবীর ১৭০ দেশে ১ কোটি ২০ লাখের মতো বাংলাদেশি কাজ করেন। করোনার কারণে চাকরিচ্যুত কিংবা অনেকটা বাধ্য হয়ে ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিককে দেশে ফিরতে হতে পারে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া কূটনৈতিক তত্পরতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যেন শ্রমিকদের ফেরত না পাঠায়, তার উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ তহবিলে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২৪ এপ্রিল সংখ্যায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়েছে। তার প্রশংসা করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামও। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং বন্যা দীর্ঘ হলে সরকার চাপের মুখেই থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। -সুত্র : ইত্তেফাক