(দিনাজপুর২৪.কম) সরকারের ব্যর্থতায় তিস্তাচুক্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বলেছেন, সরকার ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে। কিন্তু তিস্তাচুক্তি করতে পারেনি। নিঃসন্দেহে এটা সরকারের ব্যর্থতা এবং জাতি হিসাবে আমরা আশাহত হয়েছি। গতকাল নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে রিপন বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতারা চিকিৎসা বঞ্চিত অবস্থায় অত্যন্ত কষ্টে কারাগারে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে এগুলো রাজনীতিবীদের জন্য সামঞ্জস্য নয়। আসন্ন রমজানের আগে দলের সকল শীর্ষ নেতাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। নেতাদের মুক্তি দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মোদির সফর নিয়ে বিএনপির মূল্যায়ন জানতে চাইলে  ড. রিপন বলেন, ভারতের জনগণের ভোটে নির্বাচিত নরেন্দ্র মোদির সফরকে আমরা নিঃসন্দেহে স্বাগত জানিয়েছি। তার ওই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তবে  মোদির এই  সফর সফল না ব্যর্থ এটা এককথায় বলার বিষয় নয়। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। রিপন বলেন, পত্র-পত্রিকায় পড়েছি-অনেকগুলো চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এসব চুক্তি ও সমঝোতায় কি আছে বিএনপি এখন পর্যন্ত জানে না। সাধারণ মানুষও জানে না। সুতরাং আমরা ও সাধারণ মানুষ জানলে এসব বিষয়ে কথা বলা যেত। আমরা আহ্বান করছি, সরকার দ্রুত এসব চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করবে। তখন আমরা এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাবো। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ আমরা পছন্দ করি না। বিএনপি অভিযোগ ও নালিশের রাজনীতিও করে না। তবে বাংলাদেশে ভোট ও নির্বাচনের নামে যে তামাশা হয় তা গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে তাদের (ভারত) জানা উচিত। ড. রিপন বলেন, সরকার বলেছে- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স দেখাবে। বিএনপিও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে চায়। বিএনপি জিরো টলারেন্সের নীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন চায়। অন্যভাবে ক্ষমতায় আসতে চায় না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। –(ডেস্ক)