(দিনাজপুর২৪.কম) করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সঙ্কটে হতদরিদ্র ও কর্মহীন ৫০ লাখ পরিবারের জন্য আড়াই হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই উপহারের টাকা সরকারি সিস্টেম অনুযায়ী এক নম্বরে আড়াই হাজারের বেশি টাকা যাওয়ার সুযোগ নেই।

টাকা যাওয়ার জন্য তিনটি পদ্ধতিতে যাচাই করা হচ্ছে। আর এই যাচাই করতে গিয়েই সরকারি সিস্টেমে ধরা পড়েছে কোনো কোনো জায়গা থেকে একাধিক ব্যক্তির নামে একটি নম্বর পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বলেন, তালিকা তৈরি করেছেন স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হবিগঞ্জ, বাগেরহাটের দুটি ইউনিয়নসহ কয়েকটি জায়গায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। শতাধিক নামের বিপরীতে ১-২টি ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গেলে সবার টাকা ওই ১-২টি নম্বরের ব্যক্তিরা পেয়ে যাবেন।

দেশে মেম্বর ৪১ হাজার ১৩৯ জন, মহিলা মেম্বর ১৩ হাজার ৭১৩ জন, ইউপি চেয়ারম্যান ৪ হাজার ৫৭১ জন। এর মধ্যে ৪-৫ জন এই অপকর্ম করেছেন।

তিনি জানান, এই অনিয়মটি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারই ধরেছে। এমন না যে যাচাই-বাছাই শেষে তারা টাকা পেয়ে গেছেন। আর যদি যাচাই-বাছাই শেষে এই রকম তালিকা কেন্দ্রে আসেও তাও তাদের টাকা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কারণ নামের সাথে ভোটার আইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর অটোমেটেড সিস্টেমে ভেরিফাই করে এরপর টাকা ছাড় দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাত লাখের বেশি পরিবারকে টাকা পাঠানো হয়েছে।

প্রতিটা ভোটার আইডি নম্বরের সাথে নাম ও ফোন নম্বর ভেরিফাই করে দেয়া হচ্ছে। যেখানে ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

খোকন বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৪-৫ দুর্নীতিবাজ এ রকমটি ঘটাবে না তা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। ঘটনার প্রতিকার হয়েছে কি-না সেটা দেখেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যে অর্থ পাঠিয়েছেন, কয়েকটি জেলায় প্রায় ৫০-৬০টি কিংবা তারও অধিক অ্যাকাউন্টে একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ কেউ এটিকে দুর্নীতি হিসেবে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে।

তিনি বলেন, আমি প্রথমে সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে জানান যে, আমাদের অনলাইন সিস্টেমেই এই অসঙ্গতিগুলো ধরা পড়েছে।

আর ওইসব অসঙ্গতিপূর্ণ অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা যায়নি l তারা আরও জানান, এসব অসংগতি দূর করে নতুনভাবে তালিকা পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপ্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সেলিম জানান, এই কর্মসূচিটি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর একান্ত উদ্যোগে নেয়া হয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলি। তিনি আমাকে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, এই ডিজিটাল কর্মসূচিতে একজনের নামে বা একজনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ অর্থ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কেউ যদি বলে থাকে যে, কারো কারো মোবাইল ফোন নেই, তাই অন্য কারো মোবাইল নম্বর দেয়া হচ্ছে, আমাদের সিস্টেমে এটি গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই।

সিস্টেম এটি গ্রহণ করবে না। শুধু মোবাইল নম্বর থাকলেই হবে না, তার সাথে ভোটার আইডি কার্ড নম্বরও থাকতে হবে। প্রতিটি ব্যক্তির মোবাইল ফোন নম্বর আর ভোটার আইডি নম্বর ভেরিফাই করে টাকা ছাড় করানো হবে।

তাছাড়া যে ব্যক্তিকে টাকাটা পাঠানো হবে, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী তিনি এটি প্রাপ্য কি-না সেটিও সিস্টেম দেখবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সব পরিবারেই ন্যূনতম একটা মোবাইল ফোন রয়েছে।

তাই মোবাইল নম্বর নেই- এই অজুহাতে অন্য কারো নম্বরে টাকা গ্রহণ করা বা পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। যারাই দুর্নীতি করার চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সেলিম মাহমুদ বলেন, দেশে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রয়েছেন চার হাজার ৫৭১ জন, ইউপি সদস্য রয়েছেন ৪১ হাজার ১৩৯ জন আর নারী সদস্য আছেন ১৩ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে ৪-৫ জন এই অসঙ্গতিপৃর্ণ বা অন্যায় কাজটি করেছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আর এই কয়েকটি অসঙ্গতি বা অনিয়ম সরকারের সিস্টেমেই ধরা পড়েছে। সরকারই এটি উদঘাটন করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার প্রধান ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থে আড়াই হাজার টাকা করে ঈদ উপহার হিসেবে ১২৫০ কোটি টাকা দিয়েছেন। এটি একটি ইতিহাস।

প্রতি পরিবারে ন্যূনতম চারজন সদস্য ধরলে দেশে মোট উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা দুই কোটি। আর প্রতি পরিবারে সদস্য পাঁচজন ধরলে মোট উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা আড়াই কোটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নগদ সহায়তা পেয়ে খুশি তৃণমূলের সাধারণ মানুষ। -ডেস্ক