(দিনাজপুর২৪.কম) তৃতীয় দফায় সম্প্রসারিত হচ্ছে মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প। ফলে মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং মূল ধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও সামাজিক বৈষম্য দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী  বলেন, ‘যে সব মহিলা ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন তারা কেউই বেকার নেই। কোন না কোন কাজে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ধীন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রস্তাবিত হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন শীর্ষক প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, এ প্রকল্পটি ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সূত্র জানায়, মূল প্রকল্পটি ২০০৯ সালে যখন শুরু হয় তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩১ কোটি ২০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় কিছুটা বাড়িয়ে করা হয় ৩২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন সময় দুই বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৪৭ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সময় ৩ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এবং ব্যয় বাড়িয়ে ৭১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের নিমিত্ত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার, কর্মহীন মহিলা ও পুরুষকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত করা এবং এ দক্ষ জনসম্পদকে উৎপাদনমুখী শিল্পে কর্মসংস্থানের দ্বারা দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই শিল্প উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ নিদের্শনার ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন ও পরিধি বৃদ্ধি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভার সুপারিশক্রমে প্রকল্পটি পরবর্তীতে দু’বার সংশোধন অনুমোদন করা হয়।

প্রকল্পটি ৩য় সংশোধনকালে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধানের নেতৃত্বে আইএমইডি ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠিত কমিটি চলমান প্রকল্পটির মধ্যবর্তী মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে প্রকল্পটি দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে বলে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং কাজসমূহের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে মেয়াদবৃদ্ধিসহ প্রকল্পটি সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। প্রকল্পটি তৃতীয়বার সংশোধনের কারণ হিসেবে আরডিপিপিতে প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত কাজসমূহের পরিধি ও মেয়াদ বৃদ্ধি এবং এ জন্য ব্যয় বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কাজের পরিধি বৃদ্ধি, কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কাজের ব্যয় বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- এই প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো ৯টি ট্রেড, যথা- লাইট মেশিনারিজ, ইলেকট্রনিক্স, ইলেক্ট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স, অটোক্যাড, গার্মেন্টস মেশিনারি মেইনটেন্যান্স, ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, হাউজ হোল্ড এ্যাপ্লায়েন্স মেইনটেন্যান্স, কার্পেন্ট্রি, প্লাস্টিক প্রসেসিং ইত্যাদি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান।

১৪ হাজার ৪০০ জন পুরুষ এবং ১০ হাজার ৪৪০ জন নারীসহ মোট ২৪ হাজার ৮৪০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষিত নারী-পুরুষদের কারখানার প্রকৃত কাজের পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং কাজে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহী করা। যোগ্য প্রশিক্ষিত আগ্রহী নারী পুরুষকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে মানসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা। -ডেস্ক