(দিনাজপুর২৪.কম) হত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সব রোহিঙ্গাকে ক্রমান্বয়ে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। এছাড়া নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া ৬ হাজার মানুষের ব্যাপারে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি আলোচনা হবে। শুক্রবার ( ১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকায় সফররত মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জে. কিউ সির সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিকাল ৩টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বসেন।

এর আগে, পৌনে ৩টার দিকে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে এলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এসময় তাকে গার্ড অব অনার জানানো হয়। পরে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেণ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জে. কিউ সি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তারাও পজেটিভ মুড নিয়ে এসেছিল। আমরা ১১ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গার লিস্ট করেছি, সেখাবে তারা (মিয়ানমার) বলেছিলেন ফ্যামিলি ওয়াইজ লিস্ট দিতে। আমরা আজকে এক হাজার ৬৭৩টি পরিবারের আট হাজার ৩২ জনের তালিকা করে তাদের দিয়েছি। তারা এটি কর্ডিয়ালি রিসিভ করেছেন।’ ‘তারা (মিয়ানমার) এটা (তালিকা) যাচাই-বাছাই করে আমাদের জানাবেন।’

উল্লেখ্য, জাতিগত নিপীড়নে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। মিয়ানমারের সীমান্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকে রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে রোহিঙ্গাদের। তাদের সবাইকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ সরকার। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা মোট ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৬।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক গবেষণায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) বলেছে, মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন যদি ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়, তাহলে সময় লাগবে সাত বছর৷ মূল্যস্ফীতি ও জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি বাদ দিয়ে বিদ্যমান রোহিঙ্গাদের পেছনে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খরচ করতে হবে ৪৪৩ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা৷ জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিকে বাদ দিয়ে মূল্যস্ফীতি যোগ করে প্রতিদিন যদি ৩০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠানো হয়, তাহলে সময় লাগবে আট বছর৷

অর্থাৎ ২০২৬ সাল নাগাদ রোহিঙ্গাদের পেছনে খরচ করতে হবে ৫৯০ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা৷ জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিকে বাদ দিয়ে মূল্যস্ফীতি যোগ করে প্রতিদিন যদি ২০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সময় লাগবে ১২ বছর৷ সেক্ষেত্রে ২০৩০ সাল নাগাদ তাদের পেছনে খরচ হবে এক হাজার ৪৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা৷

সিপিডির হিসাব মতে, আগামী জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পেছনে খরচ হবে ৮৮ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ সাত হাজার ৪০ কোটি টাকা৷ সিপিডি বলেছে, ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প তৈরির কারণে ছয় হাজার একর বনের জমি উজাড় হয়েছে৷ সিপিডির হিসাবে এর আর্থিক মূল্য ৭৪১ কোটি টাকা৷

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে সিপিডি হিসাব করছে, আগামী বছরের জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ৭ হাজার১২৬ কোটি টাকা জরুরি, যা দেশের মোট জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৮ শতাংশ৷ এছাড়াও এই পরিমাণ অর্থ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের দশমিক ০৩ শতাংশ এবং মোট রাজস্বের ২ দশমিক ৫ শতাংশ৷ -ডেস্ক