(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ থেকে তুলে ধরা সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গত ২৯ জুলাই দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে নয় দফা দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা। এর আগে রোববার বিমানবন্দর সড়কে দুর্ঘটনার পরও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওই সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এই অবস্থায় বেলা একটার পর সচিবালয়ে জরুরি বৈঠক হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নেতা নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারি, এবং বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের সব দাবি আমরা মেনে নিয়েছি যে দাবিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’ ‘আমি শিক্ষার্থীদের বলব, তোমরা রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে ক্লাসে ফিরে যাও, বাসায় ফিরে যাও, তোমরা আমাদের প্রিয় সন্তান, তোমাদের কষ্টে আমরাও ব্যথিত। তবে এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব কিছুই করব।’

বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো, যেখান থেকে গাড়ি ছাড়বে সেখানে ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স, রুট পারমিট পরীক্ষা করা হবে। দেশব্যাপী এই পরীক্ষাটা করা হবে।’

এই পরীক্ষা কারা করবে-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা মালিক-শ্রমিক নিজেরাই করবে। তারা চাইলে প্রশাসনের লোকজনও থাকবে।’ ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় আছে তারাও দেখবে।’

মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধেই তো অভিযোগ, তারা কীভাবে নিশ্চিত করবে এগুলো- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘মালিক-শ্রমিক ছাড়া কি আমরা চলতে পারব? তা তো পারব না। তাদেরকে দিয়েই নিশ্চিত করতে হবে।’

কবে থেকে এই কাজ শুরু হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মহোদয়ও নেমেছেন অভিযানে।’

বিআরটিএ কোনো একটি রুটে অভিযান চালালে সব রুটেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের জনবল সংকটও আছে। এগুলোর সমাধান কীভাবে হবে?-এমন প্রশ্নও রাখেন একজন গণমাধ্যম কর্মী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বসেছি, কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, সমাধান করব।’

ঢাকা-চট্টগ্রার রুটে শ্রমিকরা কাদের ইন্ধনে আন্দোলনে নেমেছে- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিন দিন ধরে এই অবরোধ চলছে, এটা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয় তাহলে এখান থেকে বিভিন্ন শ্রেণি ফায়দা লোটার চেষ্টা করবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে ‘কোমলমতি’ শিক্ষার্থীরা রাজপথে বিক্ষোভ করছে, তারাও ভাঙচুরে পক্ষে নয়। কিন্তু গত চার দিনে মোট ৩০৯টি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে, আটটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এজন্য ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে’ দায়ী করেন আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আমরা দোষীদের সর্বেচ্চ শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করব, সরকার ব্যবস্থা নেবে। পর্যায়ক্রমে আমরা সবগুলো ব্যবস্থা নেব। আমরা কোনোক্রমেই লাইসেন্সবিহীন, ফিটনেসবিহীন রোড পারমিটবিহীনি যানবাহন চলতে দেব না।”

রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গত চার দিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবি হল: 
১. বেপোরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার দিতে হবে।
৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।
৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করতে হবে।
৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে হোটেল রেডিসন এলাকায় জাবালে নূর বাসের চাপায় রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। এসময় মোহাম্মদপুর-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। -ডেস্ক