(দিনাজপুর২৪.কম) সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাকে রুখে দেয়ার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ১টায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নিজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে সম্মিলিতভাবে রুখে দেয়ার শপথ নিয়ে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চলমান মাঠের  আন্দোলনের ইতি টানলেন শিক্ষার্থীরা। মিলনায়তনের বাইরেও কয়েক শ’ শিক্ষার্থী শপথে অংশ নেন। শপথ পাঠ করান বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ছাত্রী রাফিয়া রিজওয়ানা। নৈতিকতার সঙ্গে ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরণের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সমূলে উৎপাটিত করবেন বলেও শপথ নেন শিক্ষার্থীরা।

শপথ অনুষ্ঠানে বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, সাতটি হলের প্রাধ্যক্ষগণ, ভারপ্রাপ্ত ডিএসডব্লিউ ড. মো. আবদুল বাসিত উপস্থিত ছিলেন। তবে শিক্ষকরা মিলনায়তনে উপস্থিত থাকলেও তারা শপথ নেননি। এর আগে বেলা ১১টার দিকে মিলনায়তনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শপথে বলা হয়, বুয়েটের আঙিনায় আর যেন নিষ্পাপ কোনো প্রাণ ঝরে না যায়, আর যাতে কেউ অত্যাচারিত না হন, সেটা সবাই মিলে নিশ্চিত করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞাতসারে হওয়া প্রতিটি অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাই সর্বদা সোচ্চার থাকবেন। এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য তাঁদের ওপর অর্পিত নৈতিক, মানবিকসহ সকল প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। মঙ্গলবার ঘোষিত এই কর্মসূচি বাইরে হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় তা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। গত ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকেই আবরার হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ১০ দফা দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটি দাবি পুরণের ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তারপরও সব দাবি পুরণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ভর্তি পরীক্ষার কারণে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল থাকার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও আন্দোলন চালিয়ে যান তারা। মঙ্গলবার ঘোষণা দেয়া হয়, বুধবার গণশপথের মাধ্যমে মাঠের কর্মসূচির ইতি টানা হবে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সৌমিক বলেন, গণশপথের মাধ্যমে আমরা রাজপথের আন্দোলন থেকে বিরত থাকব শুধু। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং কোন ধরণের ক্লাস পরীক্ষা চলবে না। যতদিন পর্যন্ত দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কার না করা হবে ততদিন সব ধরণের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সাধারণ শিক্ষকরা এই শপথে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। বা তাদের কোন গাফিলাতিও নেই। তাই এখানে তারা শপথ বাক্য পাঠ করেননি। তবে তাদের যদি প্রয়োজন হয় তবে তারা শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে শপথ বাক্য পাঠ করবেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষে ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, চার্জশিট গঠনের পরেই আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের বহিষ্কার করবো। আর একাডেমিক কার্যক্রমের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তই আমরা গ্রহণ করবো।

গত ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই দিন হলের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যণ্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবরারের বাবার দায়ের করা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হলেও পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ন্যাক্কারজনক এই হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতদের ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।-ডেস্ক