(দিনাজপুর২৪.কম) পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করে বৃষ্টির পানি ও সৌরশক্তির ব্যবহার উপযোগী একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে এমন ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। সচিবালয়ের দুই ও তিন নম্বর ভবনের পাশে টিনশেড ভবনের পাশে ‘এল’ আকৃতির ভবনটি নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।

২০ তলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ হলে বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় হয়ে খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি থাকবে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও সেটি কোন মডেলে হবে তা নিয়ে কয়েকদফা সভার পর ‘গ্রিন বিল্ডিং’ ধারণাটিই প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। ভবনটি নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপি তৈরির সিদ্ধান্তও হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ভবনে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী পানি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাশ্রয়ী উপকরণ ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে। সচিবালয় ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জানান, পানি ও বর্জ্য শোধন করে বারবার ব্যবহার ও খরচ কমানোই গ্রিন বিল্ডিংয়ের ধারণা। বগুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি তলায় প্রায় ২০ হাজার স্কয়ার ফুটের ভবনটিতে ব্যবহৃত কাঁচ সোলার প্যানেল হিসেবে কাজ করবে। সোলার প্যানেলে কোনো বালু পড়বে না। সেজন্য খরচ বেশি হতে পারে। বৃষ্টির পানি হাউজে ধরে রেখে ব্যবহার করা হবে।

নকশা দেখে একটি খসড়া ব্যয়ের হিসাব করা হচ্ছে। যাতে তিন-চার শ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রিন বিল্ডিংয়ের ধারণা একেবারেই নতুন। বাংলাদেশে এ বিষয়ে দু-একজন আর্কিটেক রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। এটা নিয়ে আরো অনেক কাজ করতে হবে।

গণপূর্ত অধিদফতর বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। বন্যা-ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের পুনরাবৃত্তি এবং ব্যাপকতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনগুলোতে উল্লেখযোগ্য শক্তি ব্যবহার হয়। তবে এ ক্ষেত্রটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ কমানোর অপার সম্ভাবনা আছে। একইসঙ্গে রয়েছে খরচ কমানোর সম্ভাবনা।

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনায় ভবনের নকশা ও পরিকল্পনা করা উচিত। একইসঙ্গে টেকসই নির্মাণ উপকরণ ও রীতিনীতি খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সঠিক নির্মাণ সামগ্রী বাছাই, বিদ্যু?ৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পানি সাশ্রয়ী কল স্থাপন, বর্জ্য-জলের পুনর্ব্যবহার, বৃষ্টির পানি ও সৌরশক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের সরকারি ভবনগুলোতে ধীরে ধীরে বৈশিষ্ট্যগুলো যুক্ত করতে আগ্রহী। সরকারি নীতি মেনে ভবনগুলোতে বিভিন্ন গ্রিনফিচার সংযুক্ত করা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার ব্যবস্থা অন্যতম। বৃষ্টির পানি সংগ্রহের পদ্ধতি স্থাপন এবং পরিচালনা করার জন্য একটি ম্যানুয়াল এরইমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। -ডেস্ক