(দিনাজপুর২৪.কম) হারটা প্রত্যাশিতই ছিল। দেখার বিষয় ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কত বড় ব্যবধানে হারে মামুনুলরা। ফুটবলে বাংলাদেশের বড় হার ৯-০ গোলের। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া আর ১৯৮২ সালে ইরানের সঙ্গে ৯-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। গতকালের শুরুটা দেখে মনেই হচ্ছিল লজ্জার রেকর্ড বুঝি আরও বড় করে দিচ্ছে সকারুরা। তবে প্রথমার্ধের ২৮ মিনিটে ৪-০ গোলের পর বাকি সময়ে তেমন কিছু না ঘটেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একটু গুছিয়ে খেলায় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০৯ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটির কাছে বাংলাদেশ হারলো ৫-০ গোলে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ‘বি’ গ্রুপে কিরগিজস্তান সঙ্গে ৩-১ গোলে হার দিয়ে মিশন শুরু করেছিল মামুনুলরা। ঢাকায় পরের ম্যাচে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে  ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। অপরদিকে গ্রুপ একটি ম্যাচ খেলেছে সকারুরা। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলা ওই ম্যাচটিতে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জর্ডানের বিপক্ষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
পার্থের নিব স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই অতি রক্ষণাত্মক খেলতে শুরু করে মামুনুল বাহিনী। চার ডিফেন্ডার তপু, ইয়াসিন, নাসির ও লিংকনের সঙ্গে শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং করতে থাকেন এমিলি, এনামুলরা। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। তপু-ইয়াসিনদের ঢিলেমির সুযোগ নিয়ে ষষ্ঠ মিনিটে ডান দিক থেকে  কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন ম্যাথু লেকি। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে অস্ট্রেলিয়া। বক্সের মাঝামাঝি থেকে টম রোজিচের নেয়া শট বাংলাদেশের এক  খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ঠিকানা খুঁজে নেয়। ২০ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে স্বাগতিকরা। রোজিচের শট পোস্টের বাইরে দিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু দলকে বিপদমুক্ত করতে যাওয়া তপু বর্মণের গায়ে লেগে বাংলাদেশ গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ায়। ২৯তম মিনিটে আবার গোল পায় অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক দলের এক খেলোয়াড়ের হেড পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি সোহেল; ফিরতি শটে বাংলাদেশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন নাথান বার্নস। ৩৭তম মিনিটে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসকে তুলে নিয়ে মোনায়েম খান রাজুকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। এর তিন মিনিট পরই অস্ট্রেলিয়ার দারুণ একটি আক্রমণ রুখে দেন সোহেল। অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন মুইয়ের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নাসিরুল আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে অধিনায়ক মামুনুল চোট পান। নাসিরুল আর মাঠে ফিরতে পারেননি; তার বদলে মাঠে নামেন ইয়ামিন আহমেদ  চৌধুরী। মামুনুল খেলা চালিয়ে গেলেও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। ৬১তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়া আরেকটি গোল পেলে বাংলাদেশের বড় ব্যবধানের হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাথু স্প্রিনাভিচের বাড়ানো বলে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন মুইয়ের। এরপরই মাঠে নামেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করা অধিনায়ক টিম কাহিল। তার উপস্থিতিও অস্ট্রেলিয়া দলকে আর গোল এনে দিতে পারেনি। এ অর্ধে তুলনামূলক সংগঠিত ছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। বিশেষ করে গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল ম্যাচের ৭৮, ৮২ ও ৮৪ মিনিটে তিন দফা দলকে  বাঁচান। অতি রক্ষণাত্মক খেললেও ফাউল করার প্রবণতা দেয়া যায়নি লিংকন নাসিরদের মাঝে। উল্টো পুরো ম্যাচে ১৩টি ফাউল করেছেন অস্ট্রেলিয়ানরা। বিপজ্জনক স্থানে ফাউল করা থেকেও এ ম্যাচে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে কেবল এনামুল হকই বক্সের বাইরে ফাউল করেছেন। যদিও মুইয়ের নেয়া ওই ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন গোলরক্ষক সোহেল। নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ম্যাচেও ডাগআউটে ছিলেন না বাংলাদেশের হেড কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ।
বাংলাদেশ দল: শহিদুল আলম সোহেল (গোলরক্ষক), তপু বর্মণ, ইয়াসিন, নাসিরুল ইসলাম (ইয়ামিন মুন্না), লিংকন, জামাল ভূঁইয়া, মামুনুল ইসলাম, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস (মোনায়েম খান রাজু), জুয়েল রানা, এনামুল হক (আব্দুল বাতেন মজুমদার কমল), জাহিদ হাসান এমিলি।
বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব
অস্ট্রেলিয়া ৫ : ০ বাংলাদেশ