(দিনাজপুর২৪.কম) সংসদ অধিবেশনের প্রাণ আইনপ্রণেতারাই। সংসদ সদস্যদের নিয়েই চলে সংসদের কার্যক্রম। তবে করোনার ভয়াল থাবা সব ওলটপালট করে দিয়েছে। চলমান একাদশ সংসদের বাজেট অধিবেশনে নির্দিষ্ট সংখ্যক এমপি নিয়েই অধিবেশন পরিচালিত হচ্ছে। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রায় অর্ধশত সংসদ সদস্যকে অধিবেশনে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এদিকে নির্ধারিত এমপিদের মধ্যেও বাজেট অধিবেশনে অংশ নেওয়া দুজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে এখন থেকে সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে প্রবেশের আগে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে।

জাতীয় সংসদের সরকারি দলের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রবীণ ও অসুস্থ সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সংসদের সিনিয়র সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা করা হয়েছে। যারা করোনা পজিটিভ তাদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেসব সংসদ সদস্য ঝুঁকিপূর্ণ, যেসব সদস্য বা তাদের পরিবারের কারও করোনা পজিটিভ হয়েছে এবং করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে গেছেন, তাদের সংসদে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কারও টানা ৯০ দিন অধিবেশনে অনুপস্থিতির আশঙ্কা থাকলে তাদের হাজিরা দিতে একদিনের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি

বিবেচনা করে চলতি অধিবেশনে অন্তত ৪০ জন সংসদ সদস্যকে সংসদের হুইপের দপ্তর থেকে ফোন করে সংসদে যোগ না দিতে নিরুৎসাহিত
করা হয়েছে। তারা হলেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ-৪ আসনের এমপি রওশন এরশাদ, সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর-২ আসনের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ঝালকাঠি-২ আসনের আমির হোসেন আমু, ভোলা-১ আসনের তোফায়েল আহমেদ, গোপালগঞ্জ-২ এর শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা-১৮ আসনের সাহারা খাতুন, চট্টগ্রাম-১ এর ইঞ্জিনিয়ার মোশররফ হোসেন, ফরিদপুর-৩ আসনের খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বরিশাল-১ আসনের আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, নওগাঁ-৪ আসনের ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, জামালপুর-১ আসনের আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ঢাকা-৮ আসনের রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি পিরোজপুর-২ আসনের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, শেরপুর-৩ আসনের একেএম ফজলুল হক, পাবনা-৩ আসনের মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের মোসলেম উদ্দিন, পটুয়াখালী-১ আসনের শাহজাহান মিয়া, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের দবিরুল ইসলাম, সরকারি দলের হুইপ ও খুলনা-১ আসনের পঞ্চানন বিশ্বাস, বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার, সংরক্ষিত আসনের শেখ এ্যানী রহমান, জিন্নাতুল বাকিয়া ও রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান।

এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, তাকে অধিবেশনে যোগ না দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, আপনার অধিবেশনে যোগ না দিলেও চলবে। সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গণফোরামের মোকাব্বির খান, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ওই তালিকাভুক্ত হয়েছেন। করোনা পজিটিভ হওয়ায় শহীদুজ্জামান সরকার, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, রণজিৎ কুমার রায়, ফরিদুল হক খান, এবাদুল করিম, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে অধিবেশনে যোগ না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের করোনা পজিটিভ হওয়ার কারণে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কাজী কেরামত আলী, কাজী নাবিল আহমেদ ও আহসানুল ইসলাম টিটুকে অধিবেশনে যোগ না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারে অসুস্থ ও বয়স্ক সদস্য থাকায় এমপি শেখ হেলাল উদ্দিন, ব্যক্তিগত সহকারী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শেখ তন্ময় এবং স্বামী অসুস্থ হওয়ায় সংরক্ষিত আসনের আবিদা আনজুম মিতা এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক হওয়ায় আনোয়ার হোসেন খানকে অধিবেশনে যোগ না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বা না থাকার বিষয়ে হুইপের দপ্তর থেকে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি।

এদিকে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, আ স ম ফিরোজ, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, একেএম রহমতউল্লাহ, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদসহ বেশ সিনিয়র সদস্যের বিষয়ে নেওয়া হয়নি। তাদের যোগ দিতেও বলা হয়নি, নিষেধও করা হয়নি।

অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করার পরও গত ১০ জুন জামালপুর-১ আসনের সরকারি দলের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ অধিবেশনে যোগ দেন। তাকে সংসদের প্রবেশপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অধিবেশনে যোগ না দিতে অনুরোধ করলেও তিনি বৈঠকে যোগ দেন। আবার কেউ কেউ যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। অধিবেশনে গত ১৫ জুন অংশ নেওয়া বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ১৭ জুন এবং ১১ জুন অধিবেশনে অংশ নেওয়া মোকাব্বির খানের করোনা পজিটিভ আসে। ফলে অধিবেশনে যোগ দেওয়া এমপি এবং সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। অধিবেশনে যোগদানের জন্য তালিকাভুক্ত এমপিদের করোনা টেস্টের কথাও বলছেন অনেকে। এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা তো বারবার করা যাবে না, সংসদ চলবে অনেকদিন। তা ছাড়া অধিবেশনের মধ্যে তো আমরা গ্যাপ মেনটেইন করছি। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অধিবেশনে যোগ দিচ্ছি। এমপিদের টেস্ট করার এখনো দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে অধিবেশনে প্রবেশের আগে সবার তাপমাত্রা ভালোভাবে মাপা হবে।

করোনা সংক্রমণ রোধে এবার অধিবেশনে প্রতি কার্যদিবসে এমপিদের উপস্থিতি ৬০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আগেই এমপিদের একটি তালিকা করা হয়। কবে কোন এমপি যোগ দেবেন তা ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৫ জুন অধিবেশনের পর ২৩ জুন পর্যন্ত তা মুলতবি রয়েছে। -সূত্র : আ. সময়