(দিনাজপুর২৪.কম) রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি। অপসংস্কৃতির কারণের ঐতিহ্য হারাচ্ছে পাহাড়ের মানুষ। দীর্ঘ বছর ধরে দাবি থাকলেও তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব সফলতা পাচ্ছে না। কারণ পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব পালন করার মতো এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি গড়ে উঠেনি।

রবিবার সকাল ১০টায় রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিহু, বিষু  (বৈসাবি) চারদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঊষাতন তালুকদার এসব কথা বলেন।

এসময় বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসু, বিহু, বিষু  উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও আদিবাসি ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আহবায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মানিক লাল দেওয়ান প্রমুখ।

সদস্য ঊষাতন তালুকদার আরও বলেন, দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলো এখনো সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি। প্রতিটি সম্প্রদায় নিজস্ব জাতি হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু শাসক গোষ্ঠি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিচয় ছাপিয়ে দিয়ে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পার্বত্যাঞ্চলের বুকে উৎসব আনন্দ ও সংস্কৃতির লালন, বিকাশ এবং পাহাড়ি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প কিছুই নেই।

এ আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উৎসব পৌরসভা প্রাঙ্গনে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে রাঙামাটি শহরে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী চাকমা, মারমা, খুমী, ম্রো ও চাক, বম, খিয়াং, তঞ্চঙ্গ্যা, অহমিয়া, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ।  -ডেস্ক