এম.এ সালাম (দিনাজপুর২৪.কম) সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় অজ্ঞ অথচ মহা সাংবাদিক !! আগে যেখানে অনেকদিন পত্রিকার সাথে সমপ্রিক্ত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে হতে হতো সাংবাদিক, এ পেশায় সাংবাদিকের লাইন দিনে দিনে বড় হচ্ছে। কী মধু আছে এ পেশায়? একজন সাংবাদিকের কাজ কী? কোন পথে সে চলবে? আজকাল অনেকেই সেই পথটি হারিয়ে ফেলেছেন। মূল পথ থেকে অলিগলি করে করে কেউ কেউ এখন ‘নিষিদ্ধ গলিতে’ পথ মাড়াতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন। সমাজ, দেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার অনেক লোক রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকরা মাথা না ঘামালে অশুদ্ধ হয়ে যাবে না? তাই আজ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ। সাম্প্রতিককালে নির্ভীক সাংবাদিকতা যেন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। অনেকেই সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে দলিয় ব্যনারে থেকে, লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকরা অনেকে অনেকটা দখল করে রেখেছেন প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে মুল ধারার সাংবাদিকদের, কমিটির মতের বিরুদ্ধে কোনো কাজ হলেই কৌশলে বাতিল করা হয় প্রেসক্লাবের সদস্যপথ! যার ফলোশ্রুতিতে দেখাদিয়েছে গণমাধ্যম শিল্পে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা, মেধাবী সাংবাদিকদের এ পেশা ত্যাগ, টাউট, বাটপারদের সাংবাদিকতায় আসায় এ পেশা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পেশাদার সাংবাদিক আর অপেশাদার সাংবাদিকের মধ্যে দ্বন্দ বাড়ছে। একদল সত্যের পক্ষে, আরেকদল ‘যা খুশি তাই’ করার পক্ষে। একদল চাচ্ছেন- পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে, অন্যদলের ‘চিন্তাভাবনার সময়’ নেই। দিনদিন বিভক্তি বাড়ছে। লেজুড়বৃত্তি করতে না পারলে অনেকের ‘ঘুম’ হয় না। এইসব লেজড়বৃত্তি সাংবাদিকরা অর্থে গাড়ি-বাড়িতে ও সম্মানে বৃহত্তর জায়গা দখল করেছেন। তাইতো সাংবাদিকদের অনেক নাম হয়েছে, বা দেয়া হয়েছে। ‘সাংঘাতিক’; ‘হলুদ’, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ ‘চাঁদাবাজ’, ‘সন্ত্রাসী’; ‘এমনি এমনি’, ‘কাঁচিওয়ালা’,‘ সিন্ডিকেট ’, ‘বিজ্ঞাপন’, ‘রাজনৈতিক’ ‘গলাবাজ’ ‘ভাড়াটে’ ‘দালাল’ ও ‘ঠিকাদার’ সাংবাদিক। এরপরেও তারা ‘সাংবাদিক’- এটাই বড় কথা। এ নিয়ে কারো খারাপ লাগা বা মনে সামান্য দুঃখবোধও জাগে না। যা এখন ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ নামে পরিচিত। এছাড়া, দুর্নীতির এক অন্ধজগতে বসবাস করছে সাংবাদিক ‘নামধারী’ কিছু লোক। তারা সাংবাদিকতার পরিচয় ভাঙ্গিয়ে ‘সমাজের বারোটা বাজিয়ে’ যাচ্ছে। এদেরকে বলা হয় ‘হলুদ সাংবাদিক’। এদের সংখ্যা বাড়ছেই। আজকের সাংবাদিকদের দেখলে মানুষ অনেকে ঘৃণার চোখে দেখে। সাংবাদিক মানে চাঁদাবাজ মনে করে। আগে সাংবাদিকদের মানুষ শ্রদ্ধা করতো, ভালবাসতো, আপনজন হিসেবে জানতো। এখন তাদেরকে ‘ভয়’ পায়, না ঠেকলে কাছে আসে না। আগের দিনে শুধু দারোগারা ‘মফস্বল’ যেতেন। এখন সাংবাদিকরাও যান। কোন বিষয় ভালভাবে জানার জন্য, কোন জায়গায় যাওয়াটা দোষের নয়। কিন্তু তদন্তের নামে যখন তেল দেয়া ভাত, মুরগির রান, বড় মাছের পেটি, সাথে মিষ্টান্নের আয়োজন হয়; আবার যাবার বেলা নগদ টাকা, ক্ষেতের লাউ, কুমড়ো, বেগুন, কলা, কচু’র প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় এবং সাংবাদিক তা বগলে করে বাড়িতে নিয়েও আসেন, তখনই প্রশ্ন দেখা দেয়। এজন্যই হয়তো কেউ কেউ সাংবাদিকদের ‘সাংবাদিক’ এর বদলে ‘সাংঘাতিক’ সম্মোধন করে। এমন অনেক সাংবাদিক আছেন- যাদের কিছুই কিনতে হয় না, বছরে একটি নিউজ লিখতেও হয় না। মিডিয়ার সঙ্গে কোন যোগাযোগের দরকার নেই। তবে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয়পত্র আছে, সাংবাদিক তালিকায় তাদের নাম আছে, (ঢাল নেই তোলোয়ার নেই নিধীরাম সরকার) প্রেসক্লাবের সদস্য বলেই কথা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে দাওয়াত করা হয়, আর কি চাই? এরা হচ্ছেন- এমনি এমনি সাংবাদিক। কিছু সাংবাদিক দুর্নীতি বিরুদ্ধে কথা বলেন, পত্রিকায় রিপোর্টও পাঠান। কিন্তু নিজের দিকে তাকান না। নিজের স্বার্থে দুর্নীতিকে সহায়তা করেন, কোন কোন সময় অন্যকে পথ দেখিয়ে দেন। খুন-খারাবি, বড় ধরনের মারামারি, পারিবারিক সমস্যা, দুর্ণাম বিষয়ক ঘটনা হলে অনেক সাংবাদিকের পোয়াবারো। রিপোর্ট করা থেকে নিবৃত্ত করার জন্য নিলামের মতো দর ওঠে। বনিবনা হলে সব মাটি। আর টাকা দেয়া না হলে খেয়াল খুশি মতো নিউজ ছাপা হবে, প্রয়োজনে সিরিজ নিউজ, নিউজ আইটেম না হলেও নিউজ। টাকায় নাকি ভিটামিন আছে, তাই টাকা নিতে ওইসব সাংবাদিকদের কোন লজ্জা নেই। আগে শোনা গেছে- বাদী-বিবাদী দু’ পক্ষ থেকেই দারোগারা টাকা খান। এখন কোন কোন সাংবাদিকও বিষয়টি রপ্ত করে ফেলেছেন। এসবের পরেও আমাদের দেশে ‘ভাল’ সাংবাদিকের অভাব নেই। যারা সমাজের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেন, দেশের কথা ভাবেন, নিজের দায়বদ্ধতা, পেশার মান-সম্মান সব দিক তার নজরে থাকে। কিন্তু কে ভাল, কে মন্দ তা বিচার করার সময় সাধারণ মানুষতো পায় না। তারা সবাইকে এক পাল্লায় মাপেন। এ জন্যই আজকাল অনেকে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে চান না। অনেকটা গোপনে কাজ করতে চান। আমরা সবাই চাই- এ পেশা থেকে সব ‘আবর্জনা’ দূর হোক, নতুন সমাজ গড়তে সাংবাদিকের কলম আরও শক্তিশালী হোক, পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি পাক।