(দিনাজপুর২৪.কম) সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। তারা বলেছেন, এই রায়ের অনেক অংশ আপত্তিকর ও অযাচিত। রায়ের এ আপত্তিকর অংশ প্রত্যাহার করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত আবেদন করা হবে বলেও জানা গেছে।

সোমবার (০৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে এক অনির্ধারিত আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিষয়টি উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বিশ্বস্ত সূত্রে একথা জানা গেছে।

প্রায় দুঘণ্টার অনির্ধারিত বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রায়ের কপি উপস্থাপন করেন। তিনি রায়ের বিভিন্ন পয়েন্ট উল্লেখ করে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু আনা হয়েছে, যার প্রয়োজন ছিল না। যেমন চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংশোধনীসহ বিভিন্ন বিষয় টেনে আনা হয়েছে। এ রায়ে সংসদকে ‘ইমম্যাচিউরড’ বলা হয়েছে। এমনকি ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটাকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলা হয়েছে।

এছাড়াও রায়ে আরও অনেক ‘আপত্তিকর’ বিষয় আনা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা ওই রায়ের বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে তারা সবাই ক্ষুব্ধ হন। এমনকি মন্ত্রীরা আলোচনায় বলেন, সংসদ যদি ‘ইমম্যাচিউর্ড’ হয় তাহলে রাষ্ট্রপতিও ইমম্যাচিউর্ড। আর রাষ্ট্রপতি যে প্রধান বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে প্রধান বিচারপতি করেছেন তিনি কি ইমম্যাচিউর্ড হতে পারেন না।

ওই অনির্ধারিত সভায় বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এ রায়ে যেসব ‘আপত্তিকর’ বিষয় আছে তা এক্সপাঞ্চ করতে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত আবেদন করা হবে। এছাড়া জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে নতুন আইন করার বিষয়েও একমত হয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা। রায়ের কপিতে যেসব আপত্তিকর বিষয় আছে সেসব বিষয় নিয়ে আইনমন্ত্রী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগে রায় জেনেছিলাম মাত্র। এবার রায়ের কপি হাতে পেলাম, দেখলাম, পড়লাম ও বুঝলাম। এ রায়ের কোথাও কোথাও সরকার এবং জনগণ সম্পর্কে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করা হয়েছে। কাজেই আপনারা (মন্ত্রীরা) যেখানেই সুযোগ পাবেন সেখানে এসব বিষয় জনগণকে জানাবেন। কারণ, আমরা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের এসব বিষয় জানার অধিকার আছে। প্রসঙ্গত, এর আগে রায় না পড়ে কোনো মন্তব্য করতে মন্ত্রীদের নিষেধ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিল। সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। গত বছরের ১০ মার্চ মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ মে তা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। -ডেস্ক