(দিনাজপুর২৪.কম) সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল রাখা নিয়ে সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছেন এমপিরা। সরকারি, বিরোধীদল ও স্বতন্ত্র এমপিরা একযোগে এ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। রোববার অধিবেশনে অনির্ধারিত বিতর্কে তাঁরা রিভিউয়ের মাধ্যমে ষোড়শ সংশোধনী পুনর্বহাল করে সংবিধান, গণতন্ত্র, সংসদ ও দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,পাকিস্তান ছাড়া বিচারপতিদের অভিশংসনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পদ্ধতি আর কোথাও নেই। সর্বোচ্চ আদালতই সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাহলে সামরিক শাসনের আমলে প্রণীত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কীভাবে বৈধ হয়? পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকে কীভাবে?
স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভপতিত্বে আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা দাবি করেন সংবিধান প্রণেতা, বাহাত্তরের সংবিধানকে শ্রেষ্ঠ সংবিধান বলেন- তাঁরা কীভাবে সেই বাহাত্তরের সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলেন? আমি আদালতের রায় নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না। কিন্তু এমিকাস কিউরি হিসেবে যাঁরা বক্তব্য রেখেছেন তারা অসত্য কথা বলেছেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। ড. কামাল হোসেনকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সংবিধান প্রণয়নের সময় আমরা ভারতের সংবিধানকে ফলো করেছিলাম। এখন ভারতে এ বিষয়টি নেই! তাঁর মত মানুষ কীভাবে এত বড় মিথ্যা কথা বললেন? এমিকাস কিউরিরা অনেক নিকৃষ্টমানের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা মানুষের সামনে মুখ দেখাবেন কীভাবে? তাঁরা জাতির সামনে প্রতারণা করেছেন। তাঁদের নিন্দা ও ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তিনি এ সময় ভারতের সংবিধানে থাকা বিচারপতিদের অভিশংসনের বিধানটি তুলে ধরে বলেন, আসলে এরা সুবিধাবাদী। যুক্তরাজ্য, ভারত, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকাসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সংবিধানেই বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে রয়েছে। একমাত্র পাকিস্তানের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে দেয়া হয়েছে। আইয়ুব খানের প্রণীত সেই আইন আমাদের দেশের এমিকাস ক্উিরিদের পছন্দ!
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ষোড়শ সংশোধনী কোনভাবেই অবৈধ হতে পারে না, বরং অবৈধ বিষয়টিকেই পুনর্বহাল করে সংবিধান পরিপন্থী রায় দেয়া হয়েছে কি না সেটি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর থেকে অনেক বিচারপতি সংবিধান পরিপন্থী কাজ করেছেন। আপনারা কয়জন বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন? রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিয়োগ দেন। সেই রাষ্ট্রপতিকে এই সংসদ ইমপিচমেন্ট করতে পারলে বিচারপতিদের পারবে না কেন? বাংলাদেশে আর কোনদিন অসাংবিধানিক শাসন আসবে না, তাই দিবাস্বপ্ন দেখে কারো লাভ নেই। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাই হচ্ছে আমাদের বাহাত্তরের মূল সংবিধান। এই সংবিধানকে অবজ্ঞা করার অধিকার কারও নেই। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করলেন, কিন্তু সংবিধানের সঙ্গে কোথায় সাংঘর্ষিক তা আদালত স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। -ডেস্ক