(দিনাজপুর২৪.কম) হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার এক বছর পূর্তিতে সেখানে জঙ্গিদের হাতে নিহত দেশি-বিদেশিদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে।
আজ শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের এ রেস্তোরাঁয় নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নিহতদের পরিবারের স্বজনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ উপলক্ষে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টার জন্য হলিজান আর্টিজান রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা রয়েছে।
সকাল ৮টার কিছু পরে প্রথমে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন জাপানের রাষ্ট্রদূত মাশাতো ওয়ানাতাবে এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি মিকিও হাতাডেয়া। তারা শ্রদ্ধাস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে অল্প সময় নিয়ে হলি আর্টিজান ত্যাগ করেন।
এ দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সকাল ৮টায় হলি আর্টিজানের সামনে মূল সড়কে সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশিদের অনুরোধে তাদের ছবি তোলা যাবে না, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বিদেশিরা পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ছবি না তোলার আবেদন করছেন। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মরণ
গত বছরের ১ জুলাই বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সর্ববৃহৎ এ ঘটনাটি ঘটে। সেদিন ছিল শুক্রবার। রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের এ রেস্তোরাঁয় ৫ জনের একটি জঙ্গি দল অতর্কিত হামলা চালায়। রেস্তোরাঁয় থাকা ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৩০-৩৫ জনকে জিম্মি করে রাখে এবং রাতভর হত্যাযজ্ঞ চালায়।
পরের দিন শনিবার সকালে রেস্তোরাঁয় জিম্মিদের উদ্ধারে কমান্ডো অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। তবে এর আগে শুক্রবার রাতেই জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান নিহত হন। অভিযান শেষে যৌথ বাহিনী বিদেশি নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত এবং মোট ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ২০ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান, ৯ জন ইতালিয়ান, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।