Chinese President Xi Jinping Meets With Indian Prime Minister Narendra Modi

ভারতের মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের মহা-নাটকে যে পরিণতি ঘটেছে, তাতে বিজেপি শিবির ভালোভাবেই ধাক্কা খেল। বিপর্যস্ত হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর রাতারাতি ‘চাণক্য’ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও। ‘এলেন, দেখলেন জয় করলেন’, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের বাসিন্দা হয়ে ওঠা নরেন্দ্র মোদির যাত্রাকে অনেকেই এভাবে বর্ণনা করেন।

বিশেষ করে সকল হিসাব পাল্টে দিয়ে এ বছর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রধান সেনাপতি অমিত শাহের রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দু’বার ভাবছিলেন অনেকেই।

কিন্তু একদিকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মোদি-শাহ জুটি যখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন, ঠিক সেই সময় বিধানসভার নিরিখে গত দুই বছরে ক্রমশ পায়ের তলার জমি হারাতে শুরু করেছে বিজেপি। যাতে নতুন সংযোজন মহারাষ্ট্র। সেখানে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে মাত্র ৮০ ঘণ্টায় রণে ভঙ্গ দিতে হয়েছে তাদের। আর তাতেই উদ্বেগ বেড়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর। গোটা দেশের ৭১ শতাংশ ভুখণ্ড গেরুয়া শিবিরের দখলে। দেশের মোট ২১টি রাজ্য হয় বিজেপি, নাহয় বিজেপির জোটসঙ্গীদের সরকার ছিল। ইন্দিরা গান্ধী ছাড়া আর কোনও প্রধানমন্ত্রীর আমলে দেশে কোনও দল এতটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।

যদিও বিজেপির দাবি, তাঁদের আধিপত্য ইন্দিরার আমলের কংগ্রেসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ হেন গেরুয়া শিবির রাজ্যস্তরে ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে। একসময় যারা গোটা দেশের ৭১ শতাংশ শাসন করত, তাঁরা এখন শাসন করছে মাত্র ৪০ শতাংশ।

মোদি-অমিত শাহ নেতৃত্বে আসার পর ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত হুঁ হুঁ করে বেড়েছে বিজেপি। দেশের এমন এমন রাজ্য তাঁরা দখল করেছে বা প্রধান বিরোধীর আসনে বসেছে, যে সব রাজ্যে কোনওদিন বিজেপির অস্তিত্বও কল্পনা করা যেত না। ২০১৪ সালে গোটা দেশের মাত্র ৭টি রাজ্য ছিল বিজেপির দখলে। সেসময় গেরুয়া শিবির শুধু উত্তর ও পশ্চিম ভারতের দল হিসেবে পরিগণিত হত।

মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের মতো কিছু রাজ্য গেরুয়া গড় হিসেবে পরিচিত ছিল। সেসময় বিজেপির হাতে ছিল ৭টি রাজ্য। কংগ্রেসের হাতে তখনও ছিল ১৩ টি রাজ্য। মাত্র চার বছর পরে ২০১৮ সালে বিজেপি বাড়তে বাড়তে গোটা দেশে ২১টি রাজ্য দখল করে নেয়। কংগ্রেস কমতে কমতে গুটিয়ে যায় মাত্র ৩টি রাজ্যে।

গতবছর ডিসেম্বর মাস থেকে ভাটা পড়া শুরু গেরুয়া ঝড়ে। একের পর এক বড় রাজ্য হারাতে থাকে বিজেপি। হাতছাড়া হয় মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো বড় রাজ্য। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র হাতছাড়া হওয়াটা সম্ভবত বিজেপির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। খাতায় কলমে এখনও বিজেপি এবং তার জোটসঙ্গীদের হাতে ১৭টি রাজ্য রয়েছে। কিন্তু, এর অধিকাংশই আকারে ছোট। আবার অনেক রাজ্যে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। জোটসঙ্গীদের কল্যাণে তাঁরা সরকারে আছে।

এ তো গেল বর্তমান পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আগামী মাসে। আগামী মাসে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে। যেখানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিজেপি। একে তো বিরোধী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, কংগ্রেস এবং আরজেডি মহাজোট করেছে। তার উপর আবার বিজেপির নিজের জোটসঙ্গী এজেএসইউ পার্টিও তাঁদের সঙ্গ ছেড়েছে। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের ক্ষমতায় ফেরা বেশ কঠিন।

আবার, আগামী মাসেই কর্ণাটকের ১৫ আসনে উপনির্বাচন আছে। এর মধ্যে অন্তত ৮টি আসনে না জিতলে পড়ে যেতে পারে ইয়েদুরাপ্পার সরকার। এই ১৫ আসনের ১৪টিতেই কংগ্রেস ও জেডিএস থেকে আসা বিক্ষুব্ধদের টিকিট দিয়েছে বিজেপি। যাতে আবার দলের পুরনো কর্মীরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা প্রচার তো করছেনই না, উলটে নিজেদের দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই সুর চড়াচ্ছেন। ফলে, কর্ণাটকেও কঠিন লড়াইয়ের মুখোমখি হতে হবে গেরুয়া শিবিরকে। -ডেস্ক