বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

(দিনাজপুর২৪.কম) গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী বিরোধী দল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, রাষ্ট্র ও ভোটাধিকার ধ্বংসকারী রাতের ভোটে নির্বাচিত ‘অটো প্রধানমন্ত্রীর’ মুখে এই বক্তব্য নির্লজ্জতা ও হাস্যকর। গণতন্ত্রকে কবরে শায়িত করে এখন শক্তিশালী বিরোধী দল ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য দেশের মানুষের সঙ্গে বছরের শ্রেষ্ঠ ইয়ার্কি, শ্রেষ্ঠ তামাশা।’

গতকাল রোববার মুজিববর্ষ ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী বিরোধী দল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই দরকার। কারণ, আমরা গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী আরও বলেন, ‘এ ধরনের রসিকতা ও মিথ্যাচার তার (শেখ হাসিনার) রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বিবেকহীন মানুষের কথা আমলযোগ্য নয়। তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন যে, জনগণের ভোটে নয়, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা রাতের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি যা বলেন, করেন তার উল্টোটা। তার কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা আওয়ামী লীগের ধর্ম। গণতন্ত্রকে নিহত করে সেই পুরোনো একদলীয় বাকশালই জেঁকে বসেছে বর্তমানে। গণতন্ত্রের লাশের ওপর পুরো রাষ্ট্র ও সমাজটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভয় ও ত্রাসের অধীনে। দেশের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে এখন বিকল্প মতপ্রকাশেরও সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে গণতন্ত্র ও মিডিয়া।’

অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দল নির্মূলের কাজ করে আসছেন মন্তব্য করে রিজভী আরও বলেন, ‘যে দেশে গুম ও ক্রসফায়ার আর লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা জাতীয় জীবনের অংশ হয়, সে দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে তোলার কথা যে বছরের শ্রেষ্ঠ ইয়ার্কি ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে শুধুমাত্র বিএনপি নয়, সকল বিরোধী দল এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্মূলের চেষ্টা করছেন। নিশিরাতের সংসদে আওয়ামী লীগের বানানো একটি কথিত বিরোধী দল আছে। তাদের নেত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, তারা দেশে-বিদেশে নিজেদের পরিচয় দিতে পারেন না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা লাগে। কারণ, সবাই জানতে চায়, তারা সরকারি দল না বিরোধী দল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন রাখেন- আমরা সরকারি দল, না বিরোধী দল- কোনটা আমরা?’

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন নজিরবিহীন মিডনাইটের অটো এমপিদের সংসদ আর নেই। যেমনিভাবে তারা এবারে অটো পাস আর জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি দেখালেন, সেটিরও নজির পৃথিবীতে নেই। আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আবুল মনসুর আহমেদ দুঃখ করে তার বইয়ে লিখেছেন- ১৯৭৩ সালে যেখানে অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় আসার কোনো আভাস ছিল না, তারপরও ছোট্ট বিরোধী দলকে আওয়ামী লীগ সহ্য করতে পারেনি।’ -ডেস্ক