(দিনাজপুর২৪.কম) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাতটি পদ শূন্য। এর মধ্যে দুটি প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ এবং দুটি সম্পাদকমণ্ডলীর পদ এবং তিনটি সদস্যপদ। শূন্য এ পদে আসতে তৎপর আ.লীগের অন্তত অর্ধশত নেতা। করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেলেও ভার্চুয়ালসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নজরে আসার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এমন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন পদপ্রত্যাশীরা।

গত বছরের (২০-২১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নবমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আর দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন ওবায়দুল কাদের। কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর পাঁচদিন পর ২৬ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় আরও ৩৫ জনের নাম। এরপর আট মাস পেরিয়ে গেলেও বাকি দুটি সম্পাদকীয় ( ধর্ম এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক) পদ এবং দুটি সদস্যপদে কাউকে স্থান দেয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৪ ধারার (২)-এ বলা আছে, ‘আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকর্তার পদ শূন্য হইলে কার্যনির্বাহী সংসদ উক্ত পদ শূন্য হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কো-অপ্ট বা মনোনয়ন দ্বারা উক্ত শূন্য পদ অবশ্যই পূরণ করিবে।’

কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ হয়নি। অতি সম্প্রতি দলের প্রভাবশালী তিন নেতার মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে দুই প্রেসিডিয়াম ও এক সদস্য পদ। যার কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি।

করোনা সংকটের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের দুটি প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ শূন্য হয়ে যায়। সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় শূন্য হয় সদস্যপদ।

দলের দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের মৃত্যুর কারণে শূন্য হওয়া পদগুলো নিয়ে জোর লবিং শুরু হয়েছে। তবে প্রেসিডিয়ামসহ কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য পদগুলোতে কারা আসছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কাউন্সিলে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে শূন্যপদ পূরণের একক ক্ষমতা কেবল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কারা আসছেন এ পদগুলোতে।

তবে শূন্য দুই প্রেসিডিয়াম পদ ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে বেশকিছু নাম। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু।

এর বাইরে দুই সম্পাদকমণ্ডলীর পদসহ পাঁচটি পদে আসতে তৎপরতা চালাচ্ছেন অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা রয়েছেন। বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন এমন কয়েকজনও ফেরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। দলের কাউন্সিলররা দলীয় সভানেত্রীর ওপর সব ক্ষমতা দিয়ে গেছেন। সুতরাং নতুন পদে কাকে আনবেন তা কেবল সভানেত্রী বলতে পারবেন। নিশ্চয়ই যোগ্য ও দক্ষতা দেখে তিনি এই পদগুলো পূরণ করবেন। -ডেস্ক