(দিনাজপুর২৪.কম) শুভ বিজয়া দশমী আজ। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষদিন। শুক্রবার ছিল দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন। মহানবমী। মহানবমী পূজা শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি প্রতিযোগিতা। দিনভর চলেছে চণ্ডীপাঠ আর ভক্তদের কীর্তনবন্দনা। ভোর থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মহানবমীতে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীরা ভিড় জমান।

শ্রদ্ধা আর ভক্তির মধ্য দিয়ে প্রার্থনা করেন। অশ্রুসজল নয়নে ভক্তরা দুর্গোতিনাশিনী দেবী দুর্গার পায়ে অঞ্জলি দিয়েছেন। দেবীর বন্দনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছিল কেবলই বিষাদের ছায়া। আনন্দের পুজোয় অনেকেই কেঁদেছেন।

শাস্ত্রে আছে, নবমী তিথিতে রাবণবধের পর শ্রীরামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল, যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদলাভ হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে শুক্রবার দশভুজা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা শুরুর পর ভক্তরা প্রার্থনা করতে থাকেন দেবীর উদ্দেশে।

নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহূতি দেয়া হয়। ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়। শুক্রবার সরেজমিন রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ কামনায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সের ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করেন।

বিদায় বেলায়ও চলেছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্র পাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, ঢাকের বাজনার সঙ্গে ধুনচি নৃত্য। সন্ধ্যায় মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় দশমী পূজা আরম্ভ হবে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে। ৯টা ৫১ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন করা হবে। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন এবং শান্তিজল গ্রহণ।

শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায় ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছিল যে, রাজধানীর মধ্যে অন্যতম ও সবচেয়ে সুন্দর এ পূজামণ্ডপটি। এ পূজার আয়োজন করেছে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ।

সংঘের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ জানান, পূজার বয়স ২৬ বছর। এবার ভারতের কলকাতার বেলুড় মঠের থিমে এ মণ্ডপ করা হয়েছে। গোল্ডেন মোটিফে দেবী দুর্গা এখানে স্থান পেয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান ধর্মের প্রার্থনাগারের থিম ব্যবহার করা হয়েছে পুরো মণ্ডপটিতে। স্লোগান দেয়া হয়েছে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ।’

প্রচার উপপরিষদের আহ্বায়ক তরুণ কুমার সাহা জানান, এ সংঘ থেকে শুধু পূজার উৎসবই নয়, সামাজিক উন্নয়নে বহু অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এ সংঘ ও পূজা উদযাপন কমিটিতে অনেক মুসলমান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। এদিকে পূজামণ্ডপে ঢুকতেই গেটে রয়েছে এলইডি লাইট দ্বারা দারুণ সব কারুকাজ।

শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার উপযোগী থিম জ্বলছিল টিপটিপ করে। মাঠের মধ্যস্থলে রয়েছে তিন তিনটি প্রতিমা- অশুর, দুর্গা ও কালী। তারপর ৯টি সিঁড়ি উঠেই মূল পূজামণ্ডপে প্রবেশ করতে হয়। গোল্ডেন মোটিফে করা প্রতিমাগুলো বিভিন্ন লাইনে ভক্ত আর দর্শনার্থীদের মন জয় করে নেয়।

পূজামণ্ডপ ও প্রতিমাগুলো তৈরি করেছেন চিত্রশিল্পী কুমার রায়। তিনি জানান, এ পূজামণ্ডপটি দাঁড় করাতে প্রায় ৩ মাসব্যাপী রাতদিন ৪৫ জন করে শ্রমিক কাজ করেছেন। ৯৫ শতাংশ শ্রমিকই ছিলেন মুসলমান। দেশে অনেক গুণী-জ্ঞানী শিল্পী রয়েছেন, যাদের সুযোগ দেয়া হলে তারা বিশ্ব জয় করতে পারবেন। মুসলমান শ্রমিকরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। এটা সত্যিই অসাধারণ একটি বিষয়ক। এদিকে আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিকাল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। তাছাড়া জাতীয় দৈনিকগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। -ডেস্ক