1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  3. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  4. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  5. news@dinajpur24.com : nalam :
  6. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  7. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

শুভ জন্মদিনঃ বেগম খালেদা জিয়া : শতবর্ষ বেঁচে থাকুন মা…………

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৫
  • ০ বার পঠিত

মাহবুবা জেবিন, প্রবাসী সাংবাদিক (দিনাজপুর২৪.কম)  আমার আম্মার নাম খালেদা খাতুন । বিদেশে থাকলেও সবসময় মনটা পড়ে থাকে দেশে থাকা মায়ের কাছে । আর মায়ের নামে নাম হওয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার নিউজ গুলো সবসময় উৎকর্ণ হয়ে শুনি এবং পড়ি । আজ বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন।  ১৯৪৬ সালের ১৫ই আগস্ট দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত মুসলিম পরিবারে, বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা বেগম তাইয়্যেবা মজুমদারের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহন করেন এক কন্যা সন্তান । বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী বাবা মেয়ের নাম রাখেন খালেদা । পুতুলের মতো ফুটফুটে সুন্দর বলে আদর করে তাঁকে ডাকা হতো পুতুল নামে । আদি বাড়ী ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে । ব্যবসায়ী বাবার কর্মস্থল  দিনাজপুর শহরে তিন বোন আর দুই ভাইয়ের পরিবারে বেড়ে উঠা পুতুল পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন । বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় মুসলিম নারী হিসাবে এই গৌরবের অধিকারিণী । মিশনারি স্কুলে পড়াশুনার হাতেখড়ি হয় তাঁর । এরপর দিনাজপুর গার্লস হাইস্কুল থেকে সাফল্যের সাথে মেট্রিক পাশ করেন ১৯৬০ সালে । এই সালেই বিয়ে হয় তৎকালীন তরুণ ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে । ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশুনা চালিয়ে যান । এরপর তিনি স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে গমনকরেন ।   শৈশবে শান্ত স্বভাবের বেগম খালেদা জিয়া পরিবারে সবার খুবই আদরের ছিলেন । পড়াশুনার পাশাপাশি কৈশোরে খুব ভালো ক্রীড়াবিদ ছিলেন তিনি । এথলেটিক্স সহ অন্যান্য ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্য অনেক কাপ, শিল্ড পেয়েছেন । বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবার পিছনে বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান রয়েছে । তিনি সন্তানদেরকেও খেলাধুলা করতে উৎসাহ দিতেন । পরবর্তীতে নাতনিদেরকেও খেলাধুলা করার প্রতি অনুপ্রানিত করেছেন । কারন খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে । তাঁরই একান্ত আগ্রহ এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএ্সপি । এখান থেকেই তৈরি হয়েছে বিশ্বসেরা সাকিব, তামিম, মুশফিকদের মতো আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় । মেয়েদেরকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে নেবার পিছনেও রয়েছে তাঁর অনেক অবদান । শিশুদেরকেও খেলাধুলায় খুবই উৎসাহ দেন বেগম জিয়া । শিশুদের সাথে তাদের স্বভাব সুলভ ভাবেই মেশেন তিনি । ছড়া কেটে, তাদের কাছে গান শুনতে চেয়ে , শিশুদের সাথে খেলাধুলা করে তাদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন তিনি । নাতনীদের সাথে অবসর সময় কাটাতে খুব পছন্দ করতেন বেগম খালেদা জিয়া ।  শিক্ষানুরাগী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা কে বাধ্যতামূলক করেন । দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা গ্রহনে আগ্রহী করে তুলতে তিনি ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচী চালু করেন । পল্লী অঞ্চলে মেয়েদের মাধ্যমিক
শিক্ষা অবৈতনিক করেন এবং দেশব্যপী মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচী চালু করেন বেগম  খালেদা জিয়া ।
ধর্ম পরায়ণ বেগম খালেদা জিয়া ধর্মীয় সকল আচার আচরন মেনে চলেন কঠোর ভাবে । প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রমজানে নিয়মিত খতম তারাবী পরেন । প্রতিবছর ওমরাহ্‌ পালন করেন । সবাইকে উৎসাহ দেন নামাজ পড়তে এবং রোযা রাখতে । প্রতি রাতে কোরআন তেলাওয়াত করেন । তিনি মনে করেন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি কখনো সমাজের প্রতি খারাপ হতে পারবেনা । পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতাকে খুব গুরুত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া । পরিবার কিংবা প্রতিষ্ঠান সবক্ষেত্রেই তিনি অগ্রাধিকার দেন ডিসিপ্লিনকে । আদব কায়দা খুব পছন্দ করেন । তাঁর পরিবার থেকেই তিনি সকলকে এই শিক্ষা দেন । পারিবারিক ভাবে স্বল্পভাষী, হাস্যজ্জল বেগম জিয়া পরিবারের প্রাণ । ব্যক্তিগত ভাবে উদার খোলামেলা মনের অধিকারী হলেও খুব সাধারন জীবন যাপন পছন্দ করেন । পোশাক আশাকে নিজে যেমন রুচিশীল , তেমনি ভাবে ছেলেদেরকেও সাদাসিদা কাপড়  চোপড় পরাতেন বেগম খালেদা জিয়া । সাধারন মানুষের মতো জীবন যাপনে সন্তানদের উৎসাহ দেন তিনি ।

খুব একটা রসনা বিলাসী নন তিনি । ছেলেদেরকেও শিখিয়েছেন এক তরকারী দিয়ে ভাত খেয়ে নিতে । পছন্দ করেন সাদাসিদা দেশী খাবার । খাবারে বাহুল্য পছন্দ করেন্ না বেগম খালেদা জিয়া । তিনি দেশী ফল পছন্দ করেন । পেপে, লিচু, কামরাঙ্গা, বরই, জাম এসব খেতে খুব পছন্দ করেন বেগম খালেদা জিয়া ।

ছোটবেলা থেকেই গাছপালা এবং পশুপাখির প্রতি রয়েছে বেগম জিয়ার গভীর মমত্ববোধ । অসম্ভব পছন্দ করেন বাগান করতে আর নিজের হাতে ফুল সাজাতে । প্রিয় ফুল গোলাপ আর অর্কিড । তিনি বাসায় পালন করতেন গাভী । ছিল অত্যন্ত প্রিয় কুকুর ‘জাম্বু’ আর ছিল একটি পোষা ময়নাপাখি ।  তিনি নিজে এদের দেখাশুনা করতেন যত্ন নিতেন ।

কাজের প্রতি মমত্ববোধ তার বয়সকেও হার মানিয়েছে । অক্লান্ত পরিশ্রমী বেগম খালেদা জিয়া এখনো নিরলস ভাবে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন । কাজের জন্য প্রয়োজনে রাতের ঘুম কমিয়ে দিয়ে কাজের সময়কে বাড়িয়ে নেন তিনি । দেশপ্রেম আর কর্মস্পৃহা তাঁর কাছে সবকিছুর উপরে । অনেক রাত পর্যন্ত তিনি বই পরেন, ফাইল দেখেন, পত্রিকা পড়েন । আর পছন্দ করেন নিউজ দেখতে । জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সব খবর জানতে পছন্দ করেন তিনি ।

পরনিন্দা বা অন্যের সমালোচনা অপছন্দ করেন । সবার সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনেন এবং তার সমাধান করে দেন । কিন্তু কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনো হস্তক্ষেপ করেন না ।

মমতাময়ী মা হিসাবে ছেলেদের প্রতি যেমন তাঁর রয়েছে অগাধ ভালবাসা ঠিক তেমনি ছেলের বউদেরকেও নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করেন । তিনি অত্যন্ত উদারমনা শাশুড়ি । প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ব্যাক্তিসত্তাকে প্রাধান্য দেন তিনি । অন্যের পছন্দের প্রতি সম্মান দেখান মূল্যায়ন করেন ।   ছেলেদের কাছে মা হলেন বন্ধুর মতো । ছোটবেলায় বাবা জিয়াউর রহমানকে হারানোর ফলে মা বেগম খালেদা জিয়া ছেলেদের কাছে একাধারে বাবা এবং মায়ের ভুমিকায় অবতীর্ণ হন । সন্তানদেরকে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়েছেন । পিতার আদর্শকে ছেলেদের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন ।

সর্বস্তরের মানুষের সাথে মেশা, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেনী, পেশা সব মানুষকে একদৃষ্টিতে দেখা, মানুষকে আপন করে নেয়ার শিক্ষা দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে দিয়েছেন । সময়ানুবর্তিতা , বড়দের সম্মান করা, দুঃস্থদের সহায়তা করা, কারো বিপদে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা তিনি দিয়েছেন । দুই সন্তান ছিল তাঁর দুচোখের মণি । তার পরও তিনি দেশকে সবচেয়ে বেশী ভালবেসেছেন । ছেলেদের শিখিয়েছেন দেশপ্রেম ।

‘একজন মাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- সন্তান নাকি দেশ? তিনি উত্তরে বলেছিলেন- দেশ । এরপর অমানুষিক নির্যাতন নেমে এলো তার দুই সন্তানের উপর । এক সন্তানের পায়ের হাড় ভেঙ্গে দেয়া হলো । আরেক সন্তানকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ব্রেন ড্যামেজ করে দেয়া হলো । এরপর সেই মাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো- আপনার কাছে সন্তান বড় নাকি দেশ ? উনি কেঁদেছেন । চোখের পানি ফেলতে ফেলতেই বলেছেন- দেশ । এই দেশ আমার ‘মা’ এই দেশ আমার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন । আমি আমার মায়ের কাছেই থাকব আমার স্বামীর স্বপ্নের দেশেই থাকবো ।‘

বেগম খালেদা জিয়া প্রচণ্ড রকম সাহসী এবং ধৈর্যশীল । রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে তাঁর এই সাহসিকতার প্রমান মিলে । স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলির সামনে তিনি হার মানেননি । এমনকি ….. সরকারের গুন্ডা বাহিনী্র স্বশস্ত্র আক্রমনকে পাত্তাই দেননি বেগম জিয়া । নিজের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন ।

কর্মজীবন, পারিবারিক জীবন বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই হোক হুটহাট কখনো কোন সিদ্ধান্ত নেন না তিনি । বেগম খালেদা জিয়া সবসময় ধিরস্থির ভাবে চিন্তাভাবনা করেই সব ধরনের কর্ম পরিকল্পনা করে থাকেন ।

বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে ত্যাগ এবং আপসহীন ভুমিকার জন্য দেশবাসীর কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীতে পরিনত হন তিনি । প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসাবে সুদীর্ঘ সময় তিনি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছেন ।

বাংলাদেশের গনতন্ত্র রক্ষায় তার এই সংগ্রামী ভূমিকার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি ষ্টেট সিনেটর ’ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ খেতাবে ভূষিত করেন ।

আপোষহীনতা ও কঠোর মনোবলের কারনে সহস্ত্র ষড়যন্ত্র এবং ভয়ভীতি তাঁকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করতে পারেনি । তিনি বাংলাদেশের আপামর জনগনের আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক । বাংলাদেশের মাদার তেরেসা বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় । শতবর্ষ বেঁচে থাকুন মা আপনার জন্মদিনে এই শুভকামনা ।   -(দিনাজপুর২৪.কম ডেস্ক)

মাহবুবা জেবিন
লেখকঃ প্রবাসী সাংবাদিক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর