(দিনাজপুর২৪.কম) শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, মেরুদন্ড বিহিন যেমন কোন মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা ঠিক তেমনি ছাড়া শিক্ষা কোন জাতি সমাজের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে না। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই একজন শিক্ষিত ব্যক্তি পারে সমাজ তথা দেশের উন্নয়ন ঘটাতে। পারে কুসংস্কার দূর করে সভ্য সমাজ গড়তে। এমনি মানসিকতা নিয়ে ফুলবাড়ী শহরের কিছু শিক্ষানুরাগী যেমন, প্রাক্তন এম.এন.এ নুরুলহুদা চৌধুরী, স্বপ্নপুরীর সত্যাধিকারী দেলোয়ার চেয়ারম্যানের পিতা আফতাব উদ্দিন, অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ ও সফিউদ্দীন প্রমুখ ব্যক্তিগণ বানিজ্য শহর ফুলবাড়ীতে ফুলবাড়ীসহ অত্রাঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার ঘটাতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে এগিয়ে আসেন তারা। তাঁদের অক্লান্ত মেধা, শ্রম ও অর্থে দক্ষিণ দিনাজপুরের ৭টি উপজেলা চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও  হাকিমপুর উপজেলার সমন্বয়ে ফুলবাড়ী শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ছোট যমুনা নদী ঘেষে ছাঁয়া নিবিড় কোলাহল মুক্ত পরিবেশে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ অবস্থিত। ফুলবাড়ী কলেজটিকে ১৯৬৩ সালে তৎকালীন এমএলএ মরহুম নুরুল হুদা চৌধুরী স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও শিক্ষিত সমাজ গড়তে ফুলবাড়ী কলেজটিকে ১৯৮৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ ফুলবাড়ী সফরে এসে কলেজের সার্বিক অবস্থা দেখে তিনি কলেজটি জাতীয়করণ করা হল মর্মে জনসভায় ঘোষণা দেন।কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ার পর উপযুক্ত অভিভাবক এবং বলিষ্ট নেতৃত্বের অভাবে ২০১১ সাল পর্যন্ত কলেজটিতে অনার্স কোর্স চালুর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এই এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বঞ্চিত ছিলেন। এই অবস্থায় গত ৩ অক্টোবর ২০১১ সালে শিক্ষা মন্ত্রী বরাবর কলেজে অনার্স কোর্স চালুর আবেদন জানিয়ে একটি দরখাস্ত দেন মোহাম্মদ আলী চৌেধুরী। এরপরে পুনরায় ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে শিক্ষকের শূণ্য পদ পূরণ করত: ২০১৩-২০১৪ সালে ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে জরুরি ভিত্তিতে অনার্স কোর্স চালু করণের লক্ষ্যে ০৬/১০/২০১৩ তারিখে শিক্ষা সচিব বরাবর মোহাম্মদ আলী চৌধুরী স্বাক্ষরিত ১টি দরখাস্ত প্রেরণ করা হয়। এর সূত্র ধরে ২০১৩ সালে বাংলা এবং গণিত বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। পরবর্তীকালে ০২/০৯/২০১৪ সালে শিক্ষা সচিব বরাবর প্রেরিত দরখাস্ত মোতাবেক ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে দর্শন, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং রসায়ন বিভাগে অনার্স কোর্স বাস্তবায়িত হয়।

০১ মার্চ,১৫, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী স্বাক্ষরিত দরখাস্ত শিক্ষা সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়। তিনি দরখাস্তে উল্লেখ করেন যে ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে এখন পর্যন্ত ৬টি বিষয় অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। কিন্তু বাকী গুলো চালু না হলে আশেপাশের এলাকা যেমন- নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর, পার্বতীপুর এবং চিরির বন্দর সহ ফুলবাড়ির শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বাকি কোর্সগুলো মানবিক কারণে দ্রুত চালুর ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সহ সুশীল সমাজরা।

কলেজের মোট জমি ২০ একর ৯৮ শতক। এখানে ফুটবল, ভলিবল ও ব্যাটমিন্টন খেলার মাঠ ১টি করে, প্রশাসনিক ভবন ১টি, লাইব্রেরী ১টি, শিক্ষক পরিষদ কক্ষ ১টি, অধ্যক্ষের ১টি কক্ষ, অফিস কক্ষ ১টি, উপাধ্যক্ষের কক্ষ ১টি, ভবনের সংখ্যা ৩টি, শ্রেণী কক্ষ ১৯টি, ছাত্র হোষ্টেল ১টি। এখানে অধ্যক্ষের বাসগৃহ নেই।

শিক্ষকগণের ডরমেন্ডটরি, ছাত্রী হোষ্টেল, অডিটরিয়াম, অধ্যক্ষের গাড়ী, শিক্ষকদের আবাস ব্যবস্থা, টেবিল টেনিস সহ খেলাধুলার কোন কিছু নেই। বর্তমান ফুলবাড়ী সরকারি কলেজটি বেহাল অবস্থা। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী  সুধু কলেজে অনার্স খোলার কাজে  এগিয়েছেন তেমনি তিনি ফুলবাড়ী উন্নয়নের চিন্তা করে অনেক কাজ কর্ম করছেন। উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের বিদ্যোৎসাহী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি দরখাস্ত প্রেরণ করেন। বর্তমান অনেক শিক্ষক আসলেও কিছুদিন পর তারা বদলী হয়ে চলে যাচ্ছেন।

এতে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। এ বিষয়ে অত্র এলাকার বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, সুধীজন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে সকল বিষয়ে অনার্স খোলার দাবী জানিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। যাতে ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে অবিলম্বে মাষ্টার্স কোর্স চালু করণ সম্ভব হয়।