(দিনাজপুর২৪.কম) আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা এবং নতুনভাবে সরকারীকরণের পর পরিচালনা ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। তাই শিক্ষা খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে উল্লিখিত অর্থ বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ৪৬ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকায়।

সূত্র জানায়, আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থের দরকার, তার একটি প্রাক্কলন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ। হিসাবটি পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয়, নতুনভাবে ৩৩২টি বিদ্যালয়কে সরকারি করার জন্য এর ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে অর্থের প্রয়োজন হবে ২৪২ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার টাকা। ২৯৯টি কলেজকে সরকারি করার কারণে তার পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিসিআরসিএ) এমপিওভুক্ত পদে ১৯ হাজার ৯৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তাদের বেতন-ভাতার জন্য প্রয়োজন পড়বে ৪৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২ হাজার ৮৭১ জন প্রভাষককে নিয়োগেরও সুপারিশ করেছে এনটিসিআরসিএ। তাদের নিয়োগ দেওয়ার পর বেতন-ভাতা খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ৯৯ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

জানা যায়, ৬ হাজার ১৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করা হবে। এগুলোর অনুমোদন হলে পরিচালনা ব্যয় খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। কারণ এক হিসাবে দেখা গেছে, একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম) পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য বার্ষিক প্রয়োজন হবে ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৩০০ টাকা। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (নবম-দশম) পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজন হবে ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। এভাবে একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (একাদশ থেকে দ্বাদশ) জন্য ব্যয় হবে ৬৩ লাখ ৫২ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক কলেজের জন্য ব্যয় হবে ৯১ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা। ডিগ্রি কলেজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা। ৬ হাজার ১৪১টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও করার খাতে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২৮ হাজার। এর প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় মাসে খরচ হয় ১ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতির বাইরেও কয়েক হাজার নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপরই এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন।

বাজেটে অর্থ বরাদ্দের জন্য পাঠানো ডিও লেটারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী যেসব উপজেলায় একটি করে কলেজ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি স্কুলকে সরকারীকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব স্কুল ও কলেজকে পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। এ ছাড়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এসব খাতে অতিরিক্ত ও এককালীন বরাদ্দের প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। -ডেস্ক