(দিনাজপুর২৪.কম) সিলেট হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বিউটি আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ও সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

বিউটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ কী কী কার্যকর ভূমিকা নিয়েছিল সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখবে এ কমিটি। পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি প্রধান হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়া জানান, আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। এ ঘটনার প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের কোন ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করা হবে।আশা করছি তিন দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হবো।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এ ঘটনায় গত ১মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।

বিউটিকে তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন সায়েদ আলী। মামলা করায় বাবুল ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে তার নানার বাড়ি থেকে রাতে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শায়েস্তাগঞ্জের হাওরে ফেলে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পরে বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে। মূল হোতা বাবুলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। -ডেস্ক