ফাইল ফটো

(দিনাজপুর২৪.কম)

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলায় জড়িত সন্দেহে ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। পুলিশ মামলার অন্য আসামিদের খুঁজছে বলে জানান তিনি।

ডিআইজি বলেন, শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে যার মধ্যে একটি পুলিশ বাদী হয়ে, অন্যটি ইউপি চেয়ারম্যান বাদী হয়ে দায়ের করেছেন। সেই দুই মামলায় ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হামলায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা একদিনে ২২ জন আটক করতে পেরেছি। সামনে বাকি আসামিদেরও খুঁজে বের করবো।’

এসময় তিনি শাল্লায় নোয়াগাও গ্রামে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের নির্ভয়ে কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা সদরে শানে রিসালাত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ওই দিন রাতে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের গোপেন্দ্র দাসের ছেলে ঝুমন দাস আপনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ঝুমন দাসকে পরদিন রাতে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতে প্রতিবাদ মিছিল করে এলাকাবাসী। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকাল ৮টার পর থেকে নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই হামলার জন্য হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করা হচ্ছে। হামলায় প্রায় ৮৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের করা মামলায় ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে দিরাইয়ের তাড়ল ইউনিয়নের সদস্য স্বাধীন মিয়াকে। এদিকে পুলিশের করা মামলায় দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সবাইকে অজ্ঞাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।  -ডেস্ক