(দিনাজপুর২৪.কম) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের চুক্তি অনুসারে ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন যুক্ত হয়। শিক্ষার্থীদের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে শাটল ট্রেন যুক্ত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে যাওয়া-আসাকে গুরুত্ব দিয়েছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।  কিন্তু বর্তমানে এ শাটল ট্রেনের চিত্র পাল্টে গেছে। সিটে বসে স্বাচ্ছন্দ্যে দূরে থাক, ভালমতো দাঁড়িয়েও যাওয়া-আসা করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। শাটল ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় থাকে। আর এর কারণ শাটল ট্রেনে বহিরাগতদের উৎপাত।  বর্তমানে শাটল ট্রেনে প্রতিদিন যাওয়া-আসা করেন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। তারা ছাড়াও বহিরাগতদের পদচারণায় ট্রেন কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মালামাল বহন করার ক্ষেত্রেও শাটল ট্রেনই ব্যবহার করে বহিরাগতরা।

ফলে শাটল ট্রেনে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় শিক্ষার্থীদের। আবার মাঝপথে টোকাইদের ছোড়া ঢিলে রক্ত ঝরে শিক্ষার্থীদের। হুড়োহুড়ির ভেতর নামতে গিয়ে পা-ও ভাঙে। তা হলে এত সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব নেবে কে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ?

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বহিরাগতদের ঠেকানোর দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। পাশাপাশি শাটল ট্রেনে নিয়োজিত গার্ড কিংবা জিআরপি পুলিশেরও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে শহরে গিয়ে বহিরাগত ঠেকানো প্রায় অসম্ভব।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জিআরপি পুলিশ বলছে, শাটল ট্রেনে বহিরাগত বা যেকোনো অনিয়ম ঠেকাতে প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা। তাদের নির্দেশেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। যদি তারা নির্দেশনা না দেন তাহলে তারা কীভাবে ব্যবস্থা নেবে?

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেছেন, ‘বহিরাগত ঠেকাতে প্রয়োজনে রেলওয়ে কিংবা জিআরপি পুলিশকে চিঠি দেব। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শাটল ট্রেনে কোনো বহিরাগত উঠছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি। কিন্তু শহরে গিয়ে বহিরাগতদের ঠেকানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ জন্য জিআরপি পুলিশের সহযোগিতা দরকার।’

চট্টগ্রাম জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) হিমাংশু দাশ রানা বলেন, ‘শাটল ট্রেনে বহিরাগতদের রুখতে প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লিখিত নির্দেশনা। আমরা নির্দেশনা পেলেই কাজ করি।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আব্দুল হাই বলেছেন, ‘শাটল ট্রেনকেন্দ্রিক সব নির্দেশনা দেয়া আছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জিআরপি পুলিশ সমন্বয় করে পরিচালনা করে।’

শাটল ট্রেনে পর্যাপ্ত পুলিশ ও গার্ড নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, একটি শাটল ট্রেনে মাত্র চার থেকে পাঁচজন পুলিশ থাকে। এ সংখ্যাও অনেক সময় কমে, অনেক সময় থাকে না। পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় শাটল ট্রেন লক্ষ করে ঢিল ছোড়া হয় প্রায়। এতে ট্রেনে থাকা শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছেন। গত সপ্তাহেও ঢিলের আঘাতে এক ছাত্রী আহত হয়েছেন। ট্রেনলাইনের পাশে গড়ে ওঠা বস্তির টোকাইরা ঢিল ছোড়ে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি রেলওয়ে পুলিশের।

জিআরপি থানার ওসি হিমাংশু দাশ রানা আরো বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব টোকাইদের ধরার চেষ্টা করি। ঢিল ছুড়ে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা মুশকিল হয়ে পড়ে। আমরা প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শাটল ট্রেনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করব।’

শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী রাতের শাটল ট্রেনে মাদকদ্রব্যও নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাম্পাসে। শাটল ট্রেনে তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকার কারণে এসব মাদক নিয়ে যেতে পারছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘ক্যাম্পাস থেকে শহরে এসে নিয়মিত টিউশন করি। ক্যাম্পাসে যাই রাতের শাটল ট্রেনে। বিভিন্ন সময় বগি থেকে মদসহ মাদকের গন্ধে গন্ধে বমি আসে।’ নিয়মিত তল্লাশি করা হলে এ পরিস্থিতি হত না বলে মনে করেন তিনি।

ষোলশহরের এক দোকানমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রাতে শাটল ট্রেনে করে সেখানকার বিভিন্ন দোকান থেকে ইয়াবা, মদসহ নানা মাদকদ্রব্য নিয়ে যায় কিছু শিক্ষার্থী। প্যান্টের পকেটে ও ব্যাগে করে এসব নেয় তারা। -ডেস্ক