(দিনাজপুর২৪.কম) আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।’ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “সৈয়দ আশরাফ বলেছেন ‘সমাজে, রাষ্ট্রে যার যা প্রাপ্য তাকে সেইভাবেই সম্মান দেখানো উচিৎ। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই। রাজনৈতিক বিতর্কগুলো অবসান হওয়া উচিৎ।’ আমরা সৈয়দ আশরাফের এমন বক্তব্যকে বিএনপির পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের দল মনে করে নানা ইসুতে জাতীয় ঐক্য হওয়া উচিৎ, তা না হলে জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নয়। কাউকে ছোট করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও তা বিশ্বাস করতেন। শহীদ জিয়া ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।”
রিপন বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফ যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন সে মঞ্চেই অনেকে নানা বির্তকের কথা বলেছেন। আপনারা শহীদ জিয়ার অবদানকে অবজ্ঞা করবেন, আবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলবেন। আমরা অবশ্যই জাতীয় ঐক্য চাই। এ জন্য রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অহেতুক বির্তকের অবসান দরকার।’
বিচার বিভাগ সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারছে না
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর তার দল বিএনপি বলছে, আইন বিচার সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারছে না।
দলটির দাবি, দেশে সবার জন্য সমানভাবে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না, বরং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের জন্য দুই ধরনের আইন চলছে। সেজন্য ক্ষমতায় আছেন বলেই শেখ হাসিনার নামে নাইকো, গ্যাটকো দুর্নীতির মামলা স্থগিত হয়েছে। আর ক্ষমতায় নেই বলে খালেদা জিয়ার নামে মামলা চলছে।
প্রসঙ্গত, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই আবেদন খারিজ করে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এই মামলা চ্যালেঞ্জ করে খালেদার আবেদনে সাত বছর আগে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সে সময় জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়। এর ফলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো মামলার বিচার চলতে আর কোনো বাধা থাকল না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র রিপন বলেন, দেশে আইন এক যাত্রায় দুইভাবে চলছে, যেন একই স্রোতের দুই মোহনা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য এক ধরনের আইন, বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য আরেক ধরনের আইন। সেজন্য ক্ষমতায় আছেন বলেই শেখ হাসিনার নামে নাইকো, গ্যাটকো দুর্নীতির মামলা স্থগিত হয়েছে। আর ক্ষমতায় নাই বলে খালেদা জিয়ার নামে মামলা চলছে। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত ছিলো।
তিনি বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এরশাদের (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) নামে একাধিক মামলা চললেও তা ঝুলে আছে। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলাগুলো দ্রুত চালানো হচ্ছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ তারিখ দেওয়া হচ্ছে। আইন ঠিকমতো চলছে না। কারও জন্য ধীরগতিতে আর কারো জন্য দ্রুত।
বিচারকরা সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারছে না মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, মাননীয় প্রধান বিচারপতির এস কে সিনহার কথায় আশান্বিত হতে চাই। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। তাঁর কথায় আশা করতে চাই, দেশে সবার জন্য এক ধরনের বিচার ব্যবস্থা কায়েম হবে। বিচারকরা তাদের প্রাজ্ঞতা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন ব্যক্তিগত ব্যাপার
১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনে বিরত থাকার আওয়ামী লীগের আহ্বান সম্পর্কে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, ‘জন্মদিন পালন ব্যক্তিগত বিষয়।এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।’
বেগম জিয়া কখনও নিজ থেকে জন্মদিন পালন করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা নেতাকর্মীদের আবেগের ব্যাপার।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আসাদুল হাবিব দুলু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শাম্মী আকতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক