(দিনাজপুর ২৪.কম) গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রে বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘শর্টকাট’ সাজা বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ। তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ‘অ্যাকশন’ জনগণ মেনেও নিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এ ধরনের ব্যবস্থা। মায়ের কোলের শিশুকে গুলি করে কেউ পার পেয়ে যাবে তা হতে পারে না। নইলে তারা আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। এ জন্য আইনকে আরও আধুনিকায়ন করে এ ধরনের অপরাধীদের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া গতিশীল করা উচিত। অবশ্য তৃতীয় বিশ্বে ক্রসফায়ার কিংবা বন্দুকযুদ্ধের নজির রয়েছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। গতকাল দিনাজপুর ২৪.কমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ। তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদেরই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ারে’ দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষেও মত আছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে এ ধরনের অপরাধ কেউ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, এসব অপরাধীকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়া হলেও ফাঁকফোকরে তারা বেরিয়ে যায়। পরে একই অপরাধে তারা আবারও জড়িয়ে পড়ে। তাই ‘শর্টকাট’ সাজা হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। এটা সাধারণ মানুষ মেনেও নিয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এ ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের শক্তিপ্রয়োগে তাদের বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও নৈতিকভাবে কিংবা গণতান্ত্রিকভাবে চিন্তা করলে অপরাধীদেরও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সুশীলসমাজের অনেকেই বিচারবহির্ভূত অপরাধকে সমর্থন করেন না। এ ধরনের বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ার শুধু বাংলাদেশেই নয়, অনেক দেশেই প্রচলিত আছে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়াই হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই প্রকৃত অপরাধীদের ক্ষেত্রে তারা এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। উত্তম হচ্ছে, সব অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো। কিন্তু যে আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদি। আইনের ফাঁকফোকরে বড় বড় অপরাধীর বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এ জন্যই আইনকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে হবে। তিনি বলেন, মায়ের পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে যাবে, যেখানে সেখানে গুলি করে মানুষকে মেরে ফেলবে, আর অপরাধীদের সাজা দেওয়া যাবে না- তা মেনে নেওয়া যায় না। তাদের অবশ্যই কঠিন সাজা দিতে হবে। সেটা কীভাবে তড়িৎ গতিতে দেওয়া যায়, সে ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের দ্রুত বিচার আইনও বিদ্যমান। তার পরও সেটা জটিল প্রক্রিয়া। সেখান থেকেও অপরাধীরা ফাঁকফোকরে বের হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে মানুষের মনে দোদুল্যমানতা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়াকে সমর্থনই করছে। তার পরও এটা আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ জন্য আইনকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে। যেসব অপরাধী সামান্য কোনো কিছুতেই গুলি করে মানুষ হত্যা করে, তাদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় থাকুক না কেন, শাস্তি ভোগ করতেই হবে। মানুষ এদের থেকে মুক্তি চায়। তাদের ক্রসফায়ারে দিলেও সাধারণ মানুষের মনে কোনো আক্ষেপ থাকে না। সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনা যেন আর কোনোভাবেই না ঘটে। মায়ের কোলের শিশু যেন নিরাপদ থাকে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। আর গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই বিলম্বিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় আনতে হবে। (ডেস্ক)