(দিনাজপুর২৪.কম) শপথ নিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯১ জন সংসদ সদস্য। আজ বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও শপথ নেন। সকাল ১১টায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংসদ ভবনের নিচতলায় শপথকক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে তিনি নিজেও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি। এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে সংসদ ভবনজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

এরপর নবাগত এমপিরা স্পিকারের সামনে শপথ ফরমে স্বাক্ষর করেন এবং গ্রুপ ছবি তোলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ রেকর্ড গড়ে। নির্বাচন মূলত দুটো জোটে বিভক্ত হয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভোটের লড়াইয়ে নামে। এরমধ্যে একটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট। আগের মহাজোটে এবার নতুন যোগ হয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ। অন্যদিকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ তাদের মিত্রদের নিয়ে একটি জোট গঠন হয়। ঐক্যফ্রন্ট নামে ওই জোটে আরো বেশ কয়েকটি দল যুক্ত ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধার একটি আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

এছাড়া একটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগের কারণে ওই আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়। স্থগিত কেন্দ্রেগুলোর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে ২৯৮টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার গেজেট প্রকাশ করে। সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি আসন। তারমধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছে ২৫৭টি আসন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এবার জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। তারপর ৫টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিএনপি । বিএনপি জোটের শরিক গণফোরাম পেয়েছে দু’টি আসন।

অর্থাৎ জোটগতভাবে ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৭টি আসন। এছাড়া ওয়াকার্স পার্টি ৩টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ দু’টি, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জাসদ) দু’টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন একটি এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে ৫ বা ৬ জানুয়ারিই হতে পারে নতুন সরকার- এরকম একটি আলোচনা রয়েছে।
-ডেস্ক