*হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার *ঢাকায় মাউন্ট এলিজাবেথের তিন চিকিৎসক
*চোখ খুললেও শঙ্কামুক্ত নন : চিকিৎসক *স্বজন ও নেতাকর্মীদের ভিড় না করার নির্দেশ

(দিনাজপুর২৪.কম) জীবন শঙ্কায় রয়েছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা জানান, তিনি (কাদের) চোখ খুলেছেন এবং পা নাড়াচাড়া করছেন, তবে শঙ্কামুক্ত নন।সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, তার উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় এসেছেন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম। ওই চিকিৎসকরা কাদেরকে এখনই সিঙ্গাপুর না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।গতকাল রোববার ভোরে নিজ বাসায় হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ওবায়দুল কাদের। সকাল সাড়ে ৭টায় তাকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। সেখানে এনজিওগ্রাম করা হলে তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এ তিনটি ব্লকের মধ্যে একটিতে স্টেন্ট (রিং) পরানোর পরও অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।বিএসএমএমইউ সূত্র মতে, গতকাল সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন ওবায়দুল কাদের। সঙ্গে সঙ্গে তার ইসিজি করা হয়। প্রথমে ইসিজি ভালোই ছিল। পর মুহূর্তেই দেখা যায়, সিইসি স্লোইস হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, উনি শ্বাস নিতে পারছেন না। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর ওবায়দুল কাদেরের এনজিওগ্রাম করা হয়। এতে দেখা যায়, তার তিনটি রক্তনালি ব্লক।হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক নিশ্চিত হওয়ার পর ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় বিএসএমএমইউয়ের হৃদরোগ বিভাগের পক্ষ থেকে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসানের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আরও রয়েছেন অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ চৌধুরী, অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত ভৌমিক, অধ্যাপক ডা. একেএম আক্তারুজ্জামান, কার্ডিও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রেজওয়ানুল হক, অধ্যাপক অসিত বরণ অধিকারী, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, ডা. তানিয়া সাজ্জাদ, প্রিভেনটিভ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটিশন কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক প্রমুখ।গতকাল রোববার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ‘উনার (ওবায়দুল কাদের) তিনটি নালিতেই ব্লক ছিল। যেটা ক্রিটিক্যাল ছিল, এলইডি বলে, সেটা ৯৯ ভাগ। এর জন্যই উনার এই সমস্যাটা হয়েছে। আমরা শুধু সেটাকেই সারিয়ে তুলছি। কিন্তু সেটা বোধ হয় পর্যাপ্ত নয়। যেহেতু তিনটা নালিই দরকার হয়, সেহেতু সবগুলো নালিই সারানো দরকার। কিন্তু এ মুহূর্তে সেগুলো সারানো যাবে না। সারাতে গেলে আরও বিপদ ঘটবে।’তিনি বলেন, কিন্তু উনার এখন যে পরিস্থিতি আছে, ওইটা করার পর উনি অনেক উন্নতির দিকে গিয়েছিলেন। আবার দেখা যায়, একটু ডিটোরেট করে, আবার একটু উন্নতি হয়। এ পর্যায়ে ওঠানামার মধ্যে আছে। এ অবস্থায় দেশবাসী আপনারা সবাই উনার জন্য দোয়া করেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেটা বেটার ট্রিটমেন্ট, যত সোর্স আছে, সমস্ত সোর্স ব্যবহার করতে পারি।অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান আরও বলেন, দুটি নালির মধ্যে একটি নালিতে ৮০ ভাগ ব্লক রয়েছে। আর আগের একটি হার্ট অ্যাটাকের হিস্ট্রি আছে। সে কারণে সেটিও ১০০ ভাগ ব্লক।ওবায়দুল কাদের জীবন শঙ্কায় আছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু উনি ভেন্টিলেটরে আছেন, সেহেতু উনার জীবন শঙ্কা আছে বলতে পারেন।এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে সেটা গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ পেলে। দুপুরে হাসপাতালে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, মেডিকেল ইস্যুতে ডাক্তারই কথা বলবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে ওনাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ‘এমনভাবে ফ্ল্যাকচুয়েশন হচ্ছে। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে বলা যাবে না যে, উনি স্টেবল। এ মুহূর্তে সেটা বোঝা যাচ্ছে না, এখনই এটা বলা যাচ্ছে না। যদি বলেন, এখনই পাঠানো যাবে কি না, আমি বলব না, এখন পাঠানো যাবে না।এরপর এদিকে, গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা। এসময় বিএসএমএমইউর উপাচার্য (ভিসি) ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তারা জানান, ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। তবে তিনি চোখ খুলেছেন এবং পা নাড়াচাড়া করছেন। এছাড়া ডাকেও সাড়া দিচ্ছেন তিনি। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নন। এসময়ও বিদেশে স্থানান্তর করার মতো অবস্থাতেও তিনি নেই উল্লেখ করেন অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান।

ঢাকায় মাউন্ট এলিজাবেথের চিকিৎসক টিম : সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষ চিকিৎসক দল ঢাকায় আনা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে আটটা নাগাদ বিএসএমএমইউ পৌঁছেন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। হাসপাতালে প্রথমে তারা কাদেরের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এরপর বিএসএমএমইউ চিকিৎসক টিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকশেষে বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, এখনই সিঙ্গাপুর না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার : দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতার খবর শোনার পর থেকেই নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার সকালে বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্টের সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশম রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল সকালে রাজশাহী যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে সরাসরি বিএসএমএমইউতে ছুটে আসেন তিনি। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শেখ হাসিনা বিএসএমএমউ হাসপাতালে পৌঁছান। ওবায়দুল কাদেরকে দেখার পর বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এ সময় কয়েকজন নেতা জানান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগের থেকে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন চোখের পাতা একটু নাড়াচ্ছেন। রক্তচাপ ৩০ থেকে ৪০ হয়েছে।’ একই সঙ্গে আপাতত দেশের বাইরে নেয়ার দরকার নেই। এখানেই চিকিৎসা চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট দশেক পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে পৌঁছে ডি ব্লকের দোতলায় কার্ডিওলজি বিভাগে যান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তার পরপরই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী হাসপাতালে পৌঁছান। ওবায়দুল কাদেরকে দেখে বিকাল পৌনে ৫টায় হাসপাতাল থেকে ফিরে যান রাষ্ট্রপতি। স্পিকারও তার পরপরই বেরিয়ে যান। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতার খবরে হাসপাতালে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আহম্মেদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। দুপুর ২টায় বিএসএমএমইউতে কাঁদতে কাঁদতে প্রবেশ করেন তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি ইসরাতুন্নেসা ও তার পরিবার।

স্বজন ও নেতাকর্মী ভিড় না করার নির্দেশ : ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল দুপুর থেকে বিএসএমএমইউতে স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভ্যানুধায়ীরা ভিড় করছেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য হাসপাতালের উপরে ওঠার চেষ্টা করেন তারা। সময় বাড়ার সঙ্গে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে অযথা নেতাকর্মী ও স্বজনদের ভিড় না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গণমাধ্যমকে বলেন, ডাক্তাররা তার চিকিৎসা করছেন। হাসপাতালের ভেতরে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে না যাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুরো নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে অযথা যেন কেউ ভিড় না করে। যারা সমবেদনা জানাতে আসবেন তারা যেন কেউ উপরে দোতলায় না যান। যারা দেখতে আসবেন তাদের জন্য নিচে একটি খাতা-কলম রাখা আছে। সেখানে নিজের নাম লিখে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে।

কাদের পাশে বিএনপি নেতারা : এদিকে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দলটির সিনিয়র নেতারা।

আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ওবায়দুল কাদের : ওবায়দুল কাদের আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোশারফ হোসেন কলকাতা ইসলামি কলেজে পড়াশোনা করেছেন, যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠী ছিলেন। মা ফজিলাতুন্নেসা গৃহিণী। ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা একজন আইনজীবী। কোনো সন্তান নেই এই দম্পতির। ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ওবায়দুল কাদের ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জ ফিরে গিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। এরমধ্যে ১৯৭৫ এর পর এক নাগাড়ে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন ’৯৬ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি। এ পদে থাকার সময়ই তিনি এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ মার্চ গ্রেপ্তার হন। ১৭ মাস ২৬ দিন কারাগারে ছিলেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়মী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রেসিডিয়ম সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-৫ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ২০১৬-২০১৯ মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করার পর আবারো সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। রাজনীতি ছাড়াও ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। জীবনের অনেক চড়াই-উৎরাই গেলেও লেখালেখি ছাড়েননি। ওবায়দুল কাদেরের রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি। বাংলাদেশ : এ রিভোলিউশন বেট্রয়েড (যা ১৯৭৬ সালে কলকাতা মনীষা পাবলিশার্স প্রকাশ পায়), বাংলাদেশের হৃদয় হতে, পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু, এই বিজয়ের মুকুট কোথায়, তিন সমুদ্রের দেশে, মেঘে মেঘে অনেক বেলা, রচনা সমগ্র : কারাগারে লেখা অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি। -ডেস্ক