(দিনাজপুর২৪.কম) উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে চতুর্থ জয় তুলে নিলো ভারত। টস জিতে আগে ব্যাট করে ভারতের দেয়া ২২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান করতে সক্ষম হয় আফগানরা । দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৫২) রানের ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ নবী।

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ দুই ওভারে আফগানদের প্রয়োজন লাগে ২১ রান। হাতে আছে শুধু তিন উইকেট। কিন্তু জাগপ্রিত বুমরাহর ৪৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগান ব্যাটসম্যানরা। যার ফলে শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৭ রান। শেষ ওভারে সামির প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে ম্যাচকে জয়ের আরো কাছে নিয়ে যান নবী। কিন্তু পরের বলেই ক্যাচ আউট হয়ে নবী আউট হলে ম্যাচ অনেকটাই হেরে যায় আফগানরা। ব্যাট করতে নেমে নবীর আউট হওয়ার পরের দুই বলে দু্ই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শেষ হয়ে যায় আফগানিস্তানের। ৪৯.৫ ওভারে ২১৩ রানে থেমে যায় ইনিংস। ১১ রানে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।

এর আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান সংগ্রহ করে ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৬৭) রান করেন বিরাট কোহলি। (৫২) রান আসে কেদার যাদবের ব্যাট থেকে।

সাউদাম্পটনের রোজ বোলে শনিবার বিশ্বকাপের ২৮তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও আফগানিস্তান। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে ব্যাটিংয়ের প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। লক্ষ্য ছিলো এমনই শক্তিতে খর্ব আফগানিস্তানের সামনে রানের পাহাড় দাঁড় করানো।

ব্যাট করতে নেমে আফগান স্পিনারদের তোপে পড়ে ভারত। ইনিংসের পঞ্ম ওভারের চতুর্থ বলে মুজিবুর রহমান আনেন ভারতীয়ং শিবিরে প্রথম আঘাত। দলীয় স্কোর বোর্ডের ৭ রান এবং ব্যক্তিগত ১ রানের রোহিত শার্মাকে বোল্ড করে প্রথম শিকার তুলে নেন মুজিব। ওয়ানডাউনে নেমে রান মেশিন বিরাট কোহলি আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক চাপ সামলিয়ে দলকে এগিয়ে ‍নিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু ইনিংসের ১৫তম ওবার করতে আসা মোহাম্মদ নবীর দ্বিতীয় বলে দলীয় ৬৪ রানের মাথায় হযরতউল্লাহ জাজাইর তালুবন্দী হয়ে রাহুল ফেরেন ৩০ রান করে। এরপর বিজয় শঙ্করকে নিয়ে কোহলি আবার হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু জুটি বড় করতে পারেননি একবারও। ১২২ রানের মাথায় রহমাত শাহের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ৪১ রান করে ফেরেন শঙ্কর। তার আউটের পর দলের ১৩৫ রানের মাথায় বিরাট কোহলিকে (৬৩) রানে ফিরিয়ে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের মেরুদন্ডের মূল অংশটি ভেঙে দেন নবী। ক্যারিয়ারের ৫১তম ফিফটি তুলে নেন বিরাট। ৬৩ বলে ৫ চারে ৬৭ রান আসে তার উইলো থেকে। কোহলি আউট হলে মি. কুল ক্যাপ্টেনখ্যাত মহেন্দ্র সিং ধোনি অলরাউন্ডার কেদার যাদবকে নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন সামনের দিকে। ৭৩ বলে দুজনে গড়েন ৫০ রানের জুটি। কিন্তু ৪৫ ওভার ৩ বলের মাথায় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে (২৮) রান ফিরিয়ে ভারতের সামনে বিপদ ডেকে আনেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। ধোনি আউট হলে মাঠে নেমে হার্দিক পান্ডিয়াও শেষদিকে আফগান বোলারদের সামনে ছিলেন অসহায়। ৯ বলে ৭ রান করে আফতাব আলমের শিকার হয়ে ফেরেন পান্ডিয়া। দেখে শুনে খেলে  ৬৮ বলে ৫২ রান করেন কেদার যাদব। আফগান বোলিং তোপে দিশেহারা ভারত শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলেন ২২৪ রান।

আফগান বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ নবী ও গুলবাদিন নায়েব ২টি, মুজিবুর রহমান, রহমত শাহ এবং রশিদ খান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

২২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। মোহাম্মদ সামির করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে ১০ রান করে ফেরেন ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই। দেখে-শুনে খেলে আরেক ওপেনার গুলবাদিন নায়েব ও ওয়ানডাউনে নামা রহমত শাহ দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে ফল শর্ট খেলতে গিয়ে বিজয় শঙ্করের তালুবন্দী হয়ে পান্ডিয়ার শিকার হয়ে ৪২ বলে ২৭ রান করে ফেরেন গুলবাদিন। ২৬.৩ ওভারে এক শ’ রান করে  আফগানিস্তান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাসমতউল্লাহ শাহেদী ও রহমত শাহ মিলে ৪২ রানের জুটি গড়ে দলকে ১০৬ রান পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যান। তখনও খেলার মধ্যে ছিলো আফগানরা। ইনিংসের ২৯তম ওভার করতে আসা জাসপ্রিত বুমরাহ খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ভারতকে ফেরান ম্যাচে। ওভারের চতুর্থ বলে রহমত শাহকে ৩৬ রান ও ৬ষ্ঠ বলে ২১ রানে করা শাহেদীর মূল্যবান উইকেট তুলে নিয়ে। ১৩০ রানের মাথায় যুজবেন্দ্র চাহালের বলে বোল্ড হয়ে ৮ রান করে আসগর আফগান ফিরে গেলে খেল থেকে আরো ছিটকে পড়ে আফগানিস্তান। ছয় নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নামা মোহাম্মদ নবী তখন দলের শেষ ভরসা হয়ে থাকেন। নবী দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে খেলাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান। কিন্তু দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা থিতু হতে না পারায় হাত খুলে খেলতে পারছিলেন না তিনি। আসা-যাওয়ার মধ্যে নাজিবুল্লাহ জাদরান ২১ ও রশিদ খান করেন ১৪ রান। শেষ দুই ওভারে আফগানদের প্রয়োজন লাগে ২১ রান। হাতে আছে শুধু তিন উইকেট। কিন্তু জাগপ্রিত বুমরাহর ৪৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগান ব্যাটসম্যানরা। যার ফলে শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৭ রান। শেষ ওভারে সামির প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে ম্যাচকে জয়ের আরো কাছে নিয়ে যান নবী। কিন্তু পরের বলেই ক্যাচ আউট হয়ে নবী আউট হলে ম্যাচ অনেকটাই হেরে যায় আফগানরা। ব্যাট করতে নেমে নবীর আউট হওয়ার পরের দুই বলে দু্ই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শেষ হয়ে যায় আফগানিস্তানের। ৪৯.৫ ওভারে ২১৩ রানে থেমে যায় ইনিংস। ১১ রানে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে মোহাম্দ সামি হ্যাটট্রিকসহ নেন ৪ উইকেট। জাসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া ও যুজবেন্দ্র চাহাল ২টি এবং  উইকেট শিকার করেন।

১০ ওভারে এক মেডেন ওভারসহ ৩৯ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ভারতীয় দলের ফাস্ট বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ।-ডেস্ক