(দিনাজপুর২৪.কম) দিনামোগল আমলের বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন ঢাকার লালবাগ কেল্লার ভেতরে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা ও জনৈক আবুল হাশেমের বাড়ি তিন মাসের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

তবে লালবাগ কেল্লার ভেতরে থাকা জনৈক আবুল হাশেমের বাড়িটির মূল্য হিসেবে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরকে লালবাগের ভেতরে অবৈধ স্থাপনাগুলোর তথ্য প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ বুধবার সকালে এ আদেশ দেন।

আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনা ও জনৈক আবুল হাশেমের বাড়ি ৩ মাসের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ওই বাড়ির মালিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ লাখ টাকা সরকারকে দিতে বলেছেন আদালত।

এর আগে, ২০১১ সালে লালবাগ কেল্লার সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে হাইকোর্টে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে একই বছর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ লালবাগ কেল্লার সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে এই আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত থাকা অবস্থায় এক রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত এপ্রিল মাসে আপিল বিভাগ লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা কী কী অবৈধ স্থাপনা আছে তা জানতে চান আদালত।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একজন অধ্যাপকসহ ৩ জনকে নির্দেশ দেন। ওই কমিটি ২৫ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনার মধ্যে জনৈক আবুল হাশেমের বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করার পর আজ রিভিউতে এই আদেশ দেন। -ডেস্ক