(দিনাজপুর২৪.কম) আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে জটিলতার অবসানে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের কাছে চিঠিটি পাঠান হয়।এর আগে গত ৫ জুলাই দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। যদিও তাকে ৯ মাস আগেই বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ইসি কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত চিঠি তারা পেয়েছেন। এর আগেও দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, ‘অতীতের রেওয়াজ খতিয়ে দেখে প্রস্তাব তৈরি করে কমিশন সভায় উত্থাপনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে মন্তব্যের জের ধরে সমালোচনার মুখে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ দেওয়া হয় লতিফ সিদ্দিকীকে। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় নয় মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পান তিনি।
২০১৪ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লতিফ সিদ্দিকী। এর আগে তিনবার ওই আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে মতামত চেয়ে সংসদ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংসদীয় কার্য-প্রণালী বিধির ১৭৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচনের পর কোনো সদস্য সম্বন্ধে যদি এমন বিরোধ দেখা যায় যে, ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতাগুলোর কোনো একটি কারণে তিনি অযোগ্য বিবেচিত হবেন কি না, অথবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হবে কি না, তাহলে স্পিকার ওই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। দফা (২) আরো বলা আছে, যদি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হয় যে, ওই সদস্য অযোগ্য হয়েছেন, অথবা তার আসন শূন্য করা উচিত, তাহলে তিনি আর সদস্য থাকবেন না।
ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সংসদের চিঠি পেয়েই এই সংক্রান্ত আগের নজিরের ফাইলগুলো কমিশনে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লতিফ সিদ্দিকী ফ্লোর ক্রস কিংবা পদত্যাগ না করায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তার  সদস্য হিসেবে টিকে থাকার আইনগত সুযোগ নেই বলে মনে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুল মোবারক বলেন, ‘সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। এক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও আগের নজিরগুলো বিবেচনা নেওয়া হবে।'(ডেস্ক)