(দিনাজপুর২৪.কম) অসহায় হয়ে পড়েছেন দেশের পুঁজিবাজারের ২৭ লাখ বিনিয়োগকারী। করোনাভাইরাসের কারণে টানা প্রায় দেড় মাস ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাজার বন্ধ থাকায় কোনো লেনদেন করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে বাজারনির্ভর প্রান্তিক বিনিয়োগকারী, ব্রোকারেজ হাউজ ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। লেনদেন বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। লকডাউন কত দিন চলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। চলমান রমজান ও সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে তাই এক রকম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর পরই গত ২৬ মার্চ থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। ধাপে ধাপে সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই সাথে পুঁজিবাজারে লকডাউনও বাড়ানো হয়। অর্থাৎ সাধারণ ছুটির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে লেনদেনও বন্ধ করা হয় ধাপে ধাপে।

এ দিকে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেও (বিএসই) ভাটা পড়ে গেছে। কমিশনের চারজন সদস্যের মধ্যে বর্তমানে আছেন মাত্র একজন। গত মাসে একজন এবং চলতি মাসের শুরুতে একজন কমিশন সদস্য অবসরে গেছেন। এর আগে অবসরে যান আরো একজন। সব মিলে তিনজন কমিশনার অবসরে গেছেন। কিন্তু তাদের বিপরীতে কোনো কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়নি। বর্তমানে একজন কমিশনার ও চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে বিসএই। আবার চেয়ারম্যানের মেয়াদও শেষ হবে আগামী ১৪ মে। এমন পরিস্থিতিতে বিএসই থেকেও পুঁজিবাজারের জন্য কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে দুই বাজারে সদস্য রয়েছেন ২৩৮ জন। এসব সদস্যের সাথে অর্থাৎ ব্রোকারেজ হাউজের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন আরো ২০ হাজারের ওপরে। একই সাথে পুঁজিবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে ২৭ লাখ। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মধ্যে মাত্র আড়াই শতাংশ রয়েছে বিদেশী বিনিয়োগ। বাকি সাড়ে ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগই দেশীয় বিনিয়োগকারীদের।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন সদস্য গতকাল  জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপীই করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলছে। কিন্তু বিশ্বের কোনো পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ নেই। শুধু আমাদের দেশে পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। ওই সদস্য বলেন, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তো দূরের কথা, এখন অফিস ভাড়াই অনেকেই চালাতে পারছেন না। এতে অনেকেই এখন বন্ধ করে দিচ্ছেন ব্রোকারেজ হাউজ।

অপর দিকে, ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে কিছু বিনিয়োগকারী আছেন যারা দৈনিক লেনদেনের সাথে জড়িত রয়েছেন। পুঁজিবাজারে লেনদেনের মাধ্যমেই তাদের সংসার পরিচালনা হয়। কিন্তু লেনদেন বন্ধ থাকায় তারা একেবারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ দিকে, অনেকেই আছেন, যারা ঈদকেন্দ্রিক সারা বছরের বিনিয়োগের মুনাফা উত্তোলন করেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাদের এবার মুনাফা উত্তোলনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আবার অনেকেই আপৎকালীন প্রয়োজন মেটাতে শেয়ার বিক্রি করেন। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের কারণে আপৎকালীন প্রয়োজন মেটাতে লেনদেন করতে পারছেন না।

কেন পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ রাখা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই সদস্য বলেন, দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লেনদেন বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিন্তু একটি শেয়ারের মূল্য নির্দিষ্ট দামের নিচে আসতে পারবে না। এ জন্য দেয়া আছে সার্কিট ব্রেকার। কিন্তু এরপরও বাজার বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এ দিকে পুঁজিবাজার লেনদেন বন্ধ থাকায় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সব মিলে আগামী ১৬ মে সাধারণ ছুটির পর থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা প্রয়োজন বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন। তারা মনে করেন, দেশের শিল্পপতিসহ অন্য ব্যবসায়ীদের জন্য প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। নানা সুযোগসুবিধা দেয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের জন্য। কিন্তু পুঁজিবাজারের ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীর জন্য এ ধরনের কোনো প্রণোদনা এখনো দেয়া হয়নি। টানা লকডাউনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পথে বসে গেছেন। সুতরাং তাদের জন্যও প্রণোদনার কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে তারা সরকারের প্রতি আহবান জানান। -ডেস্ক