google-site-verification: google5ae70a53735248dc.html রোহিঙ্গা সঙ্কট ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ - Dinajpur24 | The Largest Bangla News Paper of Bangladesh রোহিঙ্গা সঙ্কট ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ - Dinajpur24 | The Largest Bangla News Paper of Bangladesh
  1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. erwinhigh@hidebox.org : adriannenaumann :
  3. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  4. AnnelieseTheissen@final.intained.com : anneliesea57 :
  5. maximohaller896@gay.theworkpc.com : betseyhugh03 :
  6. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  7. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  8. CorinneFenston29@join.dobunny.com : corinnefenston5 :
  9. rosettaogren3451@dvd.dns-cloud.net : darrinsmalley71 :
  10. Dinah_Pirkle28@lovemail.top : dinahpirkle35 :
  11. emmie@a.get-bitcoins.online : earnestinemachad :
  12. EugeniaYancey97@join.dobunny.com : eugeniayancey33 :
  13. vandagullettezqsl@yahoo.com : gastonsugerman9 :
  14. panasovichruslan@mail.ru : grovery008783152 :
  15. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  16. Kristal-Rhoden26@shoturl.top : kristalrhoden50 :
  17. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  18. jarrodworsnop@photo-impact.eu : lettie0112 :
  19. cruz.sill.u.strate.o.9.18.114@gmail.com : lonnaaubry38 :
  20. corinehockensmith409@gay.theworkpc.com : meaganfeldman5 :
  21. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  22. news@dinajpur24.com : nalam :
  23. marianne@e.linklist.club : noblestepp6504 :
  24. NonaShenton@miss.kellergy.com : nonashenton3144 :
  25. armandowray@freundin.ru : normamedlock :
  26. rubyfdb1f@mail.ru : paulinajarman2 :
  27. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  28. Roosevelt_Fontenot@speaker.buypbn.com : rooseveltfonteno :
  29. kileycarroll1665@m.bengira.com : sabinechampion :
  30. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  31. gorizontowrostislaw@mail.ru : spencer0759 :
  32. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
  33. online@the-nail-gallery-mallorca.com : zoebartels80876 :
বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:২০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

রোহিঙ্গা সঙ্কট ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭
  • ১ বার পঠিত

এস.এন.আকাশ, সম্পাদক (দিনাজপুর২৪.কম) বর্তমান বিশ্বের বর্বরতম মানবিক বিপর্যয়টির নাম রোহিঙ্গা গণহত্যা। বিশ্বের ইতিহাসে যতগুলো নিকৃষ্টতম গণহত্যা ঘটেছে তার মধ্যে প্রথম সারির গণহত্যা এটি। প্রথমত, সমস্যাটি মানবিক। দ্বিতীয়ত, নির্যাতিত মানুষগুলো ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় বিষয়টি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগের কারণ। তৃতীয়ত, প্রতিবেশী, মুসলিম অধ্যুষিত ও মানবিক দেশ হিসেবে বিষয়টিতে অনিবার্যভাবে বাংলাদেশ জড়িয়ে গেছে। চতুর্থত, বিষয়টি মোটেও দ্বিপাকি, ত্রিপাকি বা বহুপাকি নয়, বরং এটা মিয়ানমারের একপাকি সমস্যা। বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হলে মানবতার দায় থেকেই মানুষকে এগিয়ে আসতে হয় সে বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে। রোহিঙ্গা সঙ্কট দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা একটি স্থায়ী সঙ্কট যা ধারাবাহিকভাবে মহাসঙ্কট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পূর্ববর্তী জাতিগত বিদ্বেষের সাথে সাম্প্রতিক সময়ের পুঁজিবাদী স্বার্থের সংযুক্তি সঙ্কটটিকে আরো ঘনীভূত করেছে। এই সঙ্কট চরম আকার ধারণ করলেই কেবল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর তে সাময়িক চিকিৎসা প্রদানের মতো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। বারবার প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে উপশম খুঁজতে থাকা গভীর তটি একসময় যেমন ক্যান্সারে রূপ নেয়। রোহিঙ্গা সমস্যাটি বর্তমানে তেমনি একটি মহাসঙ্কটে পরিণত হয়েছে, যার স্থায়ী সমাধানের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এ সমাধানের পথ খুঁজতে হলে বহুমাত্রিক সঙ্কটটির প্রকৃতি নিয়েই প্রথমে কাজ করতে হবে।
মিয়ানমার দীর্ঘ দিনের সামরিক শাসনের ফলে গ্যারিসন স্টেটে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ। তেলসম্পদ ও মূল্যবান পাথরের জন্য মিয়ানমার বিখ্যাত। বিশ্বের মোট রুবি পাথরের ৯০ শতাংশ আসে মিয়ানমার থেকে। ৬,৭৬,৫৭৮ বর্গ কিলোমিটারের এ দেশটি প্রশাসনিকভাবে সাতটি রাজ্য ও সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত। এর মধ্যে রাখাইন রাজ্যটি অবস্থিত পশ্চিম উপকূলে, যার পূর্বনাম আরাকান। ৩৬,৭৬২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই রাজ্যে তিন মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা নামক জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগ ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছে। প্রায় ৫৩০০ বছর আগে ৩৩২৫ খ্রিষ্টাব্দে রাখাইনে ধন্যাবতী নামে প্রথম রাজবংশের গোড়াপত্তন ঘটে। ধন্যাবতী শাসনামলের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব ভারত থেকে অস্ট্রিক জাতির একটি শাখা, ‘কুরুখ’ নামক নৃগোষ্ঠী ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে আরাকানে এসে বসতি স্থাপন করে। অন্য দিকে, সমুদ্র তীরবর্তী এ অঞ্চলে আরব বণিকের যাতায়াত ছিল অহরহ যা ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পর ত্বরান্বিত হয়। ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে চন্দ্র-সূর্য বংশের রাজা ইঙ্গ চন্দ্রের রাজত্বকালে কয়েকটি আরব মুসলিম বাণিজ্যবহর রামব্রি দ্বীপের পাশে বিধ্বস্ত হলে জাহাজের আরোহীরা ‘রহম রহম’ বলে চিৎকারের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন করতে থাকে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজার কাছে নিয়ে গেলে রাজা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত আচরণে মুগ্ধ হয়ে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেন। স্থানীয় মহিলাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে আরাকানে বসবাস করতে থাকে। ফলে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ঘটতে থাকে। পরবর্তীকালে ‘রহম’ শব্দ থেকে অপভ্রংশের মাধ্যমে রোসাং বা রোসাঙ্গ হিসেবে এই রাজ্যের নামকরণ করা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ১৪০৪ খ্রিষ্টাব্দে নরমিখলা নামে আরাকানের ২৪ বছর বয়সী এক যুবরাজ বাবার সিংহাসনে আরোহণ করেন। বার্মাররাজা মেঙশো আই তরুণ রাজা নরমিখলাকে ১৪০৬ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনচ্যুত করে আরাকান দখল করেন। নরমিখলা পালিয়ে গৌড়ে এসে হজরত মুহম্মদ জাকির রহ:-এর দরবারে আশ্রয় নেন। এখানে ২৪ বছর অবস্থানকালে তিনি ইসলামের ইতিহাস, রাজনীতি ও সভ্যতা অধ্যয়ন করেন। ১৪৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মুহম্মদ সোলায়মান শাহ নাম ধারণ করে গৌড়ের সুলতান নাসিরউদ্দিন শাহের সাহায্যে আক্রমণকারী বার্মা রাজকে উৎখাত করেন এবং ম্রাউক-উ নামক রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আরাকানরাজ ১৪৩৭ খ্রিষ্টাব্দে রামু এবং ১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম দখল করে নেন। তবে আরাকান রাজারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং রাজসভায় মুসলিমদের প্রাধান্য দিতে থাকেন। সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসি চালু করেন। মুদ্রার এক পিঠে রাজার মুসলিম নাম ও অভিষেক কাল এবং অপর পিঠে মুসলমানদের কালিমা আরবি হরফে লেখা হতো। এভাবে সাড়ে পাঁচ হাজার বছর যাবৎ শঙ্করায়ণের মাধ্যমে গঠিত পুরনো এ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অত্যন্ত সঙ্গত কারণে রাখাইনের একমাত্র ‘ভূমিপুত্র জাতি’ বলে আখ্যা দেয়া হয়। মাঝে মধ্যে অল্পকিছু সময় ব্যতীত ৩৩২৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন আরাকান রাজ্যের নিরবচ্ছিন্ন চারটি রাজবংশ (Dhanyawadi, Waithali, Laymro Ges, Mrauk U) ও ২২৭ জন শাসকের শাসনের অবসান ঘটে ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। বার্মিজ রাজা ভোদাপায়া আরাকান রাজ্য দখল করলে আরাকান বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) অধীন একটি রাজ্যে পরিণত হয়। ইতিহাসের এই সত্যের আলোকে মিয়ানমারের বর্তমান, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী জান্তা শাসকের বানোয়াট অভিযোগকে (মিয়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা হলো ভারতীয়, বাঙালি ও চাঁটগাইয়া সেটলার, যাদেরকে ব্রিটিশরা আরাকানে এনেছে) ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করার যথেষ্ট যুক্তি-প্রমাণ রয়েছে। তা ছাড়া মিয়ানমার জাতির পিতা অং সানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল তাদের অনেকেই ছিলেন মুসলিম। বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অং সানের গঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ (শিক্ষা ও পরিকল্পনা) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক নামে একজন মুসলিম রোহিঙ্গা। বার্মার স্বাধীনতা চুক্তি স্বারের ছয় মাস আগে ১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই জেনারেল অং সান ও তার যে ক’জন সহযোগী নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক অন্যতম। প্রতি বছর জাতীয় শোক দিবসে আজো বর্মিরা অন্যদের সাথে আব্দুর রাজ্জাককে স্মরণ করেন। তা ছাড়া ১৯৪৭ সালে বার্মার যে সংবিধান রচিত হয়, সে সংবিধান কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন রাজনীতিবিদ আব্দুর রশীদ। তিনি বার্মার পার্লামেন্ট সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও ছিলেন। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বার্মার পার্লামেন্টে ও মন্ত্রিসভায় সুলতান মাহমুদ, আব্দুল গফ্ফার, নূর আহমেদ, ফজল আহমদ ও জোহরা বেগমসহ অনেক রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম শোনা গেছে। অথচ অত্যন্ত হাস্যকরভাবে জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ভিনদেশী আখ্যা দিয়ে যাচ্ছে। নির্মোহভাবে ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের বিদেশী বলার সুযোগ নেই বরং যুগ যুগ ধরে বর্মি শাসকেরাই আরাকানে বহিরাগত আক্রমণকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
আরাকানে জাতিগত নিধনের পথপ্রদর্শক হিসেবে যার নামটি উচ্চারিত হয় তিনি হচ্ছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজা ‘আনাওহতা’ (Anawahta)। কট্টরপন্থী এবং দখলদার এই বর্মিরাজ ১০৪৪ খ্রিষ্টাব্দে আরাকান দখল ও মুসলিমদের হত্যা করে বৌদ্ধ মগদের বসতি স্থাপন করেন। নৃশংসভাবে মগদের এই অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে ইতিহাস স্মরণ রেখেছে ‘মগের মুল্লুক’ হিসেবে। ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে বার্মিজ রাজা বাইন-নোং মিয়ানমারে মুসলিমদের কোরবানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ১৬৩১ থেকে ১৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আরাকান ভয়াবহ দুর্ভিরে কবলে পতিত হলে অগণিত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং এই সাথে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহজাদা সুজা আরাকানে রাজনৈতিক আশ্রয় নিলে তৎকালীন রোসাং রাজা চন্দ্র সুধর্মা বিশ্বাসঘাতকতা করে শাহ্ সুজাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা ও অর্থসম্পদ লুণ্ঠন করে। এরপর আরাকানে দীর্ঘমেয়াদি অরাজকতার সৃষ্টি হয়। এর সাথে মুসলিম জাতিগত নিধন বেগবান হয় যা ৩৫০ বছর যাবৎ আজও চলমান। এই অস্থিরতার সুযোগেই ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ভোদাপায়া আরাকান দখল করেন। ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে বার্মায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠত হয় যা দুই দফায় ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এ সময়েও উগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায় কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনযজ্ঞ থামেনি। সেই ১০৪৪ থেকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মুসলিম নিধনযজ্ঞে কয়েক মিলিয়ন মুসলিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরাকানে ধারাবাহিক মুসলিম রোহিঙ্গা নিধনের তাণ্ডব সাম্প্রতিক সময়ে যেমন ঘন ঘন ঘটছে, তেমনি যুক্ত হয়েছে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর পুঁজির স্বার্থ। প্রকাশিত খবর মতে, চীন অস্ত্রের ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য মিয়ানমারে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ইতোমধ্যে তারা রাখাইন রাজ্যর রাজধানী সিত্তুইয়ের ওপর দিয়ে গ্যাস-পাইপলাইন স্থাপনের কাজও শুরু করেছে। অন্য দিকে, ভারত রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য বিনিয়োগ-সমঝোতা স্বার করেছে। রাশিয়া এবং জাপানসহ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো রয়েছে সুযোগের সন্ধানে। বাংলাদেশের ঘোষিত বন্ধুরাষ্ট্র বলে খ্যাত ভারত বাংলাদেশের এই চরম সঙ্কটে মন্তব্য করে ‘ঢাকাকে বুঝতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দিল্লির কিছুই করার নেই’, তখনই নীরবে ধ্বনিত হয়, ‘পুঁজির কাছে ঘটেছে বন্ধুত্ব-মানবতার পরাজয়।’
পৃথিবীর বুকে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে যে কয়টি রাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয়। মানবতার দায় থেকেই বাঙালি আজ তার মুখের খাবারটুকুও ভাগ করে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এটা স্থায়ী সমাধান নয়। বাংলাদেশ যতই মানবতা দেখিয়ে যাচ্ছে, মিয়ানমার ততই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাই এ মুহূর্তে স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে নিম্নোক্ত সুপারিশমালা বিবেচনা করা যেতে পারেত প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক স্থায়ী কমিশন গঠন করে তাতে কোটা প্রথা বাদ দিয়ে মেধাবী গবেষক ও তৎপর কর্মী নিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গা সঙ্কটের মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হলো বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধুরাষ্ট্র নেই। বিষয়টিকে সামনে রেখে সুশীলসমাজ, পেশাজীবী, রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ েেত্র ইসলামি মতাদর্শী মহলগুলোকে মুসলিম বিশ্বের সাথে যোগাযোগের জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে এক জায়গায় ক্যাম্পে আবদ্ধ না রেখে বিশেষ পদ্ধতি ও নীতিমালা প্রণয়ন করে এই আপৎকালীন সময়ে উৎপাদনমুখী খাতে নিয়োগ করা যেতে পারে। সে নীতিমালায় এ জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ আত্মরার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। চতুর্থত, রোহিঙ্গাদের প্রকৃত ইতিহাস-ঐতিহ্য গবেষণার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিশ্বকে বোঝাতে হবে এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক না থাকলে অধিকার প্রতিষ্ঠার তাগিদে জঙ্গিবাদ জন্ম নেয়। পঞ্চমত, শুধু রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের সাথে নয়, কাচিন বিদ্রোহ বিষয়ে খ্রিষ্টান বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে মিয়ানমারকে চাপে রাখতে হবে।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ নিয়ে এখন অতিবাহিত করছে তার যৌবনদীপ্ত সময়। উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ সময় এখন। এ মুহূর্তে ুদ্রাতিুদ্র ভুল করারও সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয়ে ধীরস্থির ও চিন্তাশীল নীতিমালা নিয়ে এগোতে হবে।-ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর