(দিনাজপুর২৪.কম) মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চি বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপে ভীত নয় মিয়ানমার।তার দেশ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনা ও নিন্দায় ভীত নয়। অধিকাংশ মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যায়নি দেশটির রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার মধ্যেই মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সু চি এসব কথা বলেন।

ভাষণের শুরুতেই সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে নোবেল বিজয়ী সু চি সকল ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অনৈতিক সংঘাত-সন্ত্রাসের নিন্দা জানান।

সু চি দাবি করেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনাকালে মানবাধিকার রক্ষায় সব নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনগণের সম্পত্তি রক্ষা এবং নিরপরাধ মানুষের হয়রানি-নির্যাতন বন্ধে সব ধরণের পদক্ষেপের ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দোসরদের হামলায় প্রাণভয়ে এরই মধ্যে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এমন বাস্তবতায় মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণকে ভয় পান না। ‘অন্যের ওপর দোষারোপ কিংবা দায় অস্বীকার করা মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য নয়। আমরা সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি সহিংসতার নিন্দা জানাই’।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজ্যে (রাখাইন) শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।শান্তি না আসা পর্যন্ত সেনা অভিযান চলবে। আমরা শান্তি এবং ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ ও ভঙ্গুর দেশ। আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি। তবে সবার সঙ্গে তা সামলিয়ে উঠতে হবে। মুহূর্তেই আমরা কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারি না।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিতর্কিত এই নোবেলজয়ী তার বক্তৃতায় আরো জানান, বার্মা একটি জটিল জাতি। বর্তমানে উদ্ভূত সমস্যা এর জটিলতা আরো ঘণীভূত করেছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সংকট সমাধানের প্রত্যাশা করে জনগণ।

এর আগে, জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে পারবে, তবে এ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন।

জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে রয়টার্সকে এ কথা বলেন থাউং তুন। এসময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আলোচনায় বসার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া কোন বৈষম্য ছাড়াই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিতে একমত হন তারা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সংকট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫শ মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। -ডেস্ক