(দিনাজপুর২৪.কম) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার প্রধান বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীরা ভয়াবহ যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগ করার পর বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক ওইলিয়াম ল্যাসি সুইং এ মন্তব্য করেন।

এদিকে মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ তদন্তের অনুমতি দিচ্ছে না।

গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে চার লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মানবিক সহায়তার কাজ সমন্বয় করছে আইওএম।

বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইওএমের চিকিৎসকরা কয়েক ডজন নারীকে চিকিৎসা করেছেন, যারা গত আগস্ট থেকে নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে তারা বলছেন, যে বিশালসংখ্যক মানুষ এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে, চিকিৎসা পাওয়া এসব নারী তার ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র।

সংস্থাটির প্রধান সুইং বলেন, যে ভয়ঙ্কর সহিংসতা এবং নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে পরিস্থিতি এর চেয়ে ভালো হওয়ার পরেও তার খবর আসছে।

তিনি বলেন, নারী ও কিশোরীরা, বিশেষ করে পুরুষ ও কিশোররাও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের ওপর বেশি সহিংসতা ও নিপীড়ন হয়ে মূলত তাদের লিঙ্গ, বয়স ও সামাজিক অবস্থানের কারণে।

সুইং বলেন, এ ধরনের নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষকে সাহায্য করছে আইওএম। কিন্তু কতটা ভয়াবহ হারে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হয়েছে তা কিছুসংখ্যক ঘটনা জানার মাধ্যমে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব কিনা, আমি যথেষ্ট জোর দিয়ে বলতে পারছি না।

ধারণা করা হচ্ছে, গত এক মাসে এক লাখ ৬০ হাজার নারী ও কিশোরী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে দুই বোন আলজাজিরাকে বলেছেন, মিয়ানমারের সেনারা তাদের ধর্ষণ করেছে।

এর মধ্যে ২৫ বছর বয়সী মিনারা নামে এক বোন বলেন, সেনারা আমাদের নির্যাতন করেছে। তারা আমাদের বাবা-মাকে হত্যা করেছে। তারা আমাদের ধরে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং মাটিতে চেপে ধরে।

তার বোন ২২ বছরের আজিজা বলেন, দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দুই বোনকে উদ্ধার করে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে সাহায্য করে অন্য শরণার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলা হয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ বা আরসা) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এরপর থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামে অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা।রোহিঙ্গা নারীদের উপর নির্যাতন চালায় তারা। -ডেস্ক