(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো সহায়তা প্রত্যাশা করে না বাংলাদেশ। কারণ এ ইস্যুতে ট্রাম্পের মনোভাব তিনি জানেন।

সোমবার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজ দেশের এ অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রয়টার্সের সাংবাদিক মিশেল নিকোলসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সভাস্থল ছাড়ার পর ট্রাম্পকে তিনি কয়েক মিনিটের জন্য থামান। এ সময় ট্রাম্প বাংলাদেশের খবর জানতে চান। শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলি, বাংলাদেশ খুব ভালো অবস্থায় আছে। তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা। কিন্তু ট্রাম্প শরণার্থীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে ভাষণ দেবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারা কোনো শরণার্থীকে সে দেশে ঢুকতে দেবে না। আমি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে সে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে? তিনি (ট্রাম্প) এর মধ্যেই তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তাহলে আর কেন সাহায্য চাইব?

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়, কিন্তু যদি আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে আরো ৫ অথবা ৭ লাখ মানুষকেও খাওয়াতে পারব।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থীবিষয়ক কর্মসূচিতে ১২০ দিনের স্থগিতাদেশ দেয়ার চেষ্টা করেন। মুসলিম-অধ্যুষিত ছয়টি দেশের মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ৯০ দিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন। গত শুক্রবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরো বিস্তৃত, কঠোর ও সুনির্দিষ্ট করা উচিত।

ট্রাম্প বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ করতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি প্রয়োজন। আগামী মাসে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক নির্বাহী আদেশের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। -ডেস্ক