(দিনাজপুর২৪.কম) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গারা শুধু শরণার্থীই নয়, তারা রাষ্ট্রহীন। সুতরাং এটি শরণার্থী সঙ্কট। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চারদিনের সফরের শেষভাগে ঢাকায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ফিলিপো গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার, ফলে সমাধানও তাদেরই করতে হবে এবং এ সমস্যার একমাত্র সমাধান রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে ২৫ আগস্টের পর এক মাসে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গার সংখ্যা সোয়া চার লাখের বেশি। ফিলিপো গ্রান্ডির মতে সংখ্যাটি ৪ লাখ ৩৬ হাজারের মতো।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সেফ জোন প্রস্তাবনাটি নিয়ে তাদের অবস্থান পরিস্কার না করলেও গ্রান্ডি বলেন, আরাকানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অন্যতম প্রধান কাজ।

তিনি বলেন, “আমরা রাখাইন প্রদেশে স্বাভাবিক নিরাপত্তা চাই। এটা ছাড়া মানুষ সেখানে ফিরবে না। তারা সব হারিয়েছে। যদি নিরাপত্তার বিষয়ে ওই ধরনের কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তারা ফিরে যাবে না।”

রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া চার লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য দাতাদের কাছে বড় তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান তাঁর সাম্প্রতিক কক্সবাজার সফরের কথা উল্লেখ করে জানান, বাংলাদেশের ছোট এই ভৌগোলিক পরিসরে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী আশ্রয় নিয়েছে। তিনি পালিয়ে আসা লোকজনের মুখে দারুণভাবে মন খারাপ করা সব বর্ণনা শুনেছেন। তাদের সেই বর্ণনায় শারীরিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন আর সব ধরনের ভয়ভীতির পাশাপাশি নৃশংসতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

ফিলিপো গ্রান্ডি বলেন, ‘আমরা চাই, রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাক। তাই মিয়ানমারকে অবশ্যই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং পরিস্থিতি যাতে স্থিতিশীল হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন আমি সুস্পষ্টভাবে এবং জনসম্মুক্ষে তার স্বীকৃতি দিয়ে তাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। -ডেস্ক