(দিনাজপুর২৪.কম) হত্যা ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে মিয়ানামার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মুসলিম রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখবে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এ তথ্য উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায় আমাদের পাশে আছে। কোনো রোহিঙ্গাই বাংলাদেশে না খেয়ে থাকবেন না।’

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। সভায় ডব্লিউএফপি ও দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের ডেভিড বিসলে বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের সরকার খুব ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ডব্লিউএফপি এটাতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। সংস্থাটি দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকা। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার যাতে তার নাগরিকদের দ্রুত তাদের দেশে ফেরত নেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সে ব্যাপারে চেষ্টা চালানো।

ডেভিড বিসলে আরও বলেন, ‘ডব্লিউএফপি মূলত দুর্যোগকালীন মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু এখন আমাদের ৮০ শতাংশ ব্যয়ই হচ্ছে সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়ার জন্য।’

এ সময় দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ করছে। স্বল্প মেয়াদে তাদের খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। মধ্য মেয়াদে তাদের বাসস্থান ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করছে। দীর্ঘ মেয়াদে যদি তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া বিলম্বিত হয় তাহলে তাদের নোয়াখালীর ভাষাণচরে স্থানান্তর করার জন্য কাজ করছে। নৌবাহিনী ওই চরটিকে রোহিঙ্গাদের বসবাসের উপযোগী করছে। তবে আমরা চাই খুব দ্রুতই তারা তাদের দেশে ফিরে যাক।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলা হয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ বা আরসা) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এরপর থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামে অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা।রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালায় তারা।তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। -ডেস্ক