(দিনাজপুর২৪.কম) মিয়ানমার সরকার ও সেনা বাহিনীর আত্যাচার, নির্যাতন থেকে জীবন বাচাতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা জানতে ৩য় দিনের মতো কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী তিন নারী।
এ সময় নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারি রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, মঙ্গলবার সকালে নোবেলজয়ী তিন নারী ক্যাম্পে এসে পৌছেন। পৌছে মিয়ানমারের রাখাইনে ধর্ষণের শিকার চারজন নারীর বর্বর নির্যাতনের কথা শুনেন এবং আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন। এসময় আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করেন।

এর আগে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালীর তাজনিমারখোলা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ক্যাম্পের সার্বিক অবস্থান এবং রোহিঙ্গাদের জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন। এসময় ধর্ষিতা, গুলিবিদ্ধসহ অসংখ্য নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশুর সাথে একান্ত আলাপ করেন তিন নোবেল বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের নোবেল বিজয়ী মেরেইড ম্যাগুয়ার ও ইরানের নোবেল বিজয়ী শিরীন ইবাদি।

ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিন নোবেল বিজয়ী বলেন, মিয়ানমারে যে গণহত্যা, জাতিগত নিধন, গণধর্ষণ ও শিশু হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে তা মেনে নেয়া যায় না। এ মুহূর্তে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিন নোবেল বিজয়ী আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে মুসলিম বিশ্বকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইরানের শিরীন ইবাদি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত, নিপীড়িত রোহিঙ্গারা আজ বাংলাদেশে এসে পরবাসে জীবন-যাপন করছে। এসব সর্বশান্ত রোহিঙ্গাদের জন্য অমুসলিম রাষ্ট্রগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন, সেখানে মুসলিম দেশ গুলো চুপ মেরে আছে।

এ মুহূর্তে সমগ্র মুসলিম জাতিসত্তাকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে শিরিন ইবাদি বলেন, আজ এমন সঙ্কটময় সময়ে মুসলিম দেশগুলো কোথায়? ইরান, সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত কোথায়? এসব প্রভাবশালী দেশগুলো রোহিঙ্গা মুসলিমদের সেবায় আসছে না কেন?
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান চোঁখের জ¦ল ফেলে বলেন, রোহিঙ্গাদের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এর বিহীত ব্যবস্থা গ্রহন করনে প্রথমে অং সান সুচি’র পদত্যাগ করা উচিত। সে যেহেতু শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন নারী, পাশপাশি তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে এর দায়ভার এড়াতে পারেনা।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী উত্তর আয়ারল্যান্ডের মেরেইড ম্যাগুয়ার বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের যেভাবে ধর্ষণ, উৎপীড়ন ও নির্যাতন করা হয়েছে এ জন্য অং সান সুচি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে স্ব সম্মানে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব তথা সবাইকে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করার উদ্বাত্ত আহবান জানান। -ডেস্ক