(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আমরা আপিল ফাইল করেছি। বিচারের নিয়ম-নীতিতেই খালেদা জিয়ার জামিন আগামী রোববারেই মঞ্জুর হবে। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় ‍এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ‘প্রতিহিংসার বিচারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ।

আলোচনা অন্যদের মধ্যে সভায় বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা শওকত আমীন ও এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা।

মওদুদ বলেন, জামিন পাওয়া খালেদা জিয়ার অধিকার। তবে আমাদের বিচারের যে নিয়মনীতি আছে, সেই নিয়মনীতিতেই বেগম জিয়ার জামিন মঞ্জুর হবে।আগামী রোববার জামিন আবেদনের শুনানি হবে। খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের জন্য আমরা ধৈর্য সহকারে রায়ের কপির জন্য অপেক্ষা করেছি। শেষ পর্যন্ত তারা দিতে বাধ্য হয়েছে। এরপরও সরকার নানা রকম কূটকৌশলে বিলম্ব করেছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এই আইনজীবী বলেন, আমরা দেখাবো, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেও সরকারকে একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধ্য করা যায়। এমন একদিন আসবে বিএনপি নির্বাচনের মাঠে নামলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে। এটা আমি বিশ্বাস করি। কারণ মানুষই এ সরকারকে আর দেখতে চায় না।

বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন, খালেদা জিয়াকে বেশি দিন বন্দি রাখতে রায়ের অনুলিপি দিতে দেরি করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে বলছিলেন, রায়ের অনুলিপি পেতে বিএনপি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচারকের কাছে আবেদন জানাতে দেরি করেছে।

এ বিষয়ে মওদুদ বলেন, “আপনারা জানেন, আমাদের নেত্রীর কারাগারে খুব কষ্ট হচ্ছে। একটা নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে- এটা সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ বলে যে, একজন আসামির বিচার হবে পাবলিক ট্রায়ালে, এটা তার মৌলিক অধিকার। এটা ক্যামেরা ট্রায়াল হবে না। “যে জায়গায় (বকশীবাজারে জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে) আমাদের নেত্রীর ট্রায়াল হয়েছে তা কখনোই পাবলিক ট্রায়াল বলা যাবে না। একটা মারাত্মক রকমের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এই বিচার পরিচালনা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী জেলখানা থেকে বের হওয়ার পর আমরাও তাকে নিয়ে (প্রচারে) যাব। এবার কোনো আপত্তি আমরা শুনব না। আওয়ামী লীগ যদি সভা করে নৌকায় ভোট চাইতে পারে তাহলে বিএনপিও জনসভা করে ধানের শীষে ভোট চাইতে পারে।”

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বে বিএনপি আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দাবি করে মওদুদ বলেন, “ভাঙাভাঙির কথা বলে লাভ নেই। বিএনপিকে ১০ বছরে কেউ ভাঙতে পারেনি, এখনো পারবে নাকি? এখন তো যুদ্ধের সময়। বিপদের সময় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সত্য শুনতে চাই। এদেশের তরুণরা তার মুখ থেকে সত্য শুনতে চায়। মিথ্যাচার শুনতে চায় না। আপনি আমাদের সমালোচনা করুন। কিন্তু এমনভাবে বক্তব্য দেবেন না যেটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, তারা নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগের নৌকায় ভোট চাওয়া বন্ধ করতো। নইলে আমাদেরও সভা-সমাবেশ, ভোট চাওয়ার সুযোগ দিতো। আমাদের অধিকার আমাদের দিতো। আমাদের এ সুযোগ না দিলে বুঝবো নির্বাচন কমিশন আবারো একদলীয় নির্বাচন করতে চায়। আর আমরা সে সুযোগ দেবো না।

তিনি বলেন, এক দল নির্বাচনের ভোট চাচ্ছে। আরেক দলের নেত্রী জেলে আছেন। এতেই বুঝা যায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কি অবস্থা। এটাই হচ্ছে, আজকে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আমরাও ভোট চাইবো।

উল্লেখ্য, ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। সত্যায়িত কপি পাওয়ার পর বিএনপিনেত্রীর আইনজীবীরা হাই কোর্টে আপিল করলে বৃহস্পতিবার আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে। তবে দুদকের আবেদনে খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আদেশ পিছিয়ে দিয়ে রোববার আবার শুনানির দিন রাখে আদালত। -ডেস্ক