(দিনাজপুর২৪.কম) রোজার মধ্যে খেলা পড়ে গেছে বাংলাদেশের। দলীয় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি গতকাল প্রায় উনিশ ঘন্টা রোজা রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।  গত আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ- রোজার মধ্যেই টাইগারদের খেলতে হয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ম্যাচগুলো হচ্ছেও ইউরোপে যেখানে রোজা রাখতে হয় প্রায় উনিশ ঘন্টারও বেশি সময়। রোজা রেখে অনুশীলন, ম্যাচ খেলা শুধুই কঠিন নয়, শারীরিকভাবে নিজেকে ফিট রাখাও ভীষণ কঠিন। কঠিন এ কাজটিই হাসিমুখে কী দারুনভাবে করে যাচ্ছেন মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
‘মুশি (মুশফিক), রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ও মিরাজকে নিয়ে আমি গর্বিত যে তারা রোজা রেখে খেলেছে, এবং ভালো খেলেছে।’ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানান অধিনায়ক মাশরাফি।

রোজা রেখে খেলাটা কঠিন অবশ্যই, তবে তার প্রভাব পড়েনি এই তিন ক্রিকেটারের বেলায়। গতকাল বাংলাদেশ ইনিংসের সর্বোচ্চ রান (৭৮) আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে। ডেথ ওভারে এসে ধুঁকতে থাকা ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৩০ রানে নিয়ে গেছেন রিয়াদ। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও শেষ চার ওভারে তার বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ৩৩০ রানে। শেষ চার ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৫৪ রান, রিয়াদ ৩৩ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে। শেষ ওভারে ব্যাটিনয়ের সুযোগ পাওয়া মিরাজ ৩ বলে করেন ৫ রান, তবে বল হাতে তার ১০ ওভারে ৪৪ রানের স্পেলটিই দারুন ভূমিকা রাখে বাংলাদেশের জয়ে। দারুণ ছন্দে থাকা প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসকে বোল্ড করেন মিরাজ।

‘জানেনই, বিশ্বকাপের ম্যাচে অনেক চাপ থাকে। আল্লাহর অশেষ রহমত, রোজার দিনে এমন ম্যাচ খেলা ভাগ্যের ব্যাপার। এটা অনেক বড় অভিজ্ঞতা। ভালো লেগেছে, এমন দিনে জিততে পেরেছি। যখন নিয়ত করেছি রোজা থাকব, আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। মাশরাফি ভাই বলছিলেন, আল্লাহর বরকত আছে আমাদের ওপর।’ রোজা রেখে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা কেমন হলো, কাল ওভালের মিক্সড জোনে সেটি জানান মিরাজ।

তবে খেলার সময় নাকি রোজা থাকার কথা মাথায়ই ছিলনা মিরাজের! ‘আজ (কাল) খেলার সময় রোজা মাথায় ছিল না। বোলিং-ব্যাটিং নিয়েই বেশি ভেবেছি। যখন খেলা শেষ হয়েছে, তখন একটু খারাপ অনুভব হয়েছে, মনে পড়েছে, আমি তো রোজা আছি!’ -ডেস্ক