(দিনাজপুর২৪.কম) গত সংখ্যার পর। দিনাজপুর রেলওয়ের যে সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দীর্ঘ এক যুগ ধরে একই জায়গায় কর্মরত আছেন তাদের কারণেই ঘটছে টিকিটকালোবাজারীর মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের একটি জেলায় ৩ বছর চাকুরির সুযোগ পাবে। কিন্তু দিনাজপুর রেলওয়ের নিয়মকানুন নাকি একটু আলাদা। এখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চাকুরি করা যাবে! সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে চলছে রামরাজত্ব। সবাই খেয়াল খুশিমত ডিউটি করে। যে যার মত কোন ছুটি না নিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। দীর্ঘদিন চাকুরির করার সুবাদে দিনাজপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টাররা নিয়মিত অফিস করেন না। সামান্য একজন পিয়নকে দায়িত্ব দিয়ে যান। সূত্র মতে রেলওয়ে ও রেলওয়ে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে জামায়াত-বিএনপির তান্ডবে জাতীয় নির্বাচনের আগে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন ভাংচুর করা হয়। এতে  কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় এ বিষয়ে রেলওয়ের উপর মহল থেকে কোন তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। বলা হয়ে থাকে রেলওয়ে জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ যদি রেলওয়ের কর্মকর্তা-কিংবা কর্মচারীরা রক্ষা না করে তাহলে করবে টা কে? এ প্রশ্ন সুধী মহলে।
খোদ রেলওয়ে কর্মচারী টিসি মইনুল হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, গত ১১/০৮/১৫ তারিখে ভোর ৪টায় তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এবং নগদ ২৫শ’ টাকা চোর চুরি করে নিয়ে গেছে খোদ টিসি রুম (২য়তলা) থেকে। আরও জানা গেছে, সেদিন কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার সুনীল কুমার বর্মণ রাতে ডিউটি পালন না করে বাসায় ঘুমোচ্ছিলেন। স্টেশন সুপার গোলাম মোস্তফা সেদিন হুংকার ছড়ালেও তার কোন প্রভাব পড়েনি সুনীল কুমার বর্মনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে স্টেশনে সিসি ক্যামেরা কার স্বার্থে লাগানো হয়েছে। যখন চুরি হয় তখন সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল না খোলা ছিল এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। চোরের চেহারা তো কমপক্ষে চেনা যেত অথবা দায়িত্ব অবহেলায় সুনীল কুমার বর্মণের বিরুদ্ধে সিসি ক্যামেরাই যথেষ্ট প্রমাণও ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা নিলেন না স্টেশন সুপার গোলাম মোস্তফা।
সূত্র মতে শুধু টিকিট কালোবাজারি, দায়িত্ব অবহেলা শুধু নয় বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের বৈধতা দিচ্ছেন ও জেলায় জেলায় শাস্তি মওকুফ করছে নাকি লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের দীর্ঘ ৮ বছর একই জায়গায় চাকুরিরত মোস্তাফিজুর রহমান ডিটিএস। সূত্রটি জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান ডিটিএস, লালমনিরহাট, তিনি লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বোনারপাড়া, বগুড়া, শান্তাহার, রংপুর, পার্বতীপুর, দিনাজপুরের টিকিট কালোবাজারী ও বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িত। ঘুষ ও দুর্নীতির সাথে জড়িত মোস্তাফিজুর রহমান, ডিটিএস, লালমনিরহাটের বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীতে জিএম সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সদ্য জিএম হয়েছি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও আশ্বাস দেন দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় চাকুরিরত বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি তাদের অন্যত্র বদলীরও আশ্বাস দেন। (আগামী সংখ্যায় পড়–ন দীর্ঘদিন ধরে চাকুরিরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ও তাদের দুর্নীতিগুলো। চোখ রাখুন দিনাজপুর২৪.কম-এ)