(দিনাজপুর২৪.কম)জুরাইন রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ বাজারের বিস্তার গত এক বছরে আরও বেড়েছে। জুরাইন বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আগে রেললাইনের দুই ধারে প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে বাজার বসত। এখন আগের তুলনায় অন্তত ২০০ মিটার বেড়েছে। এই বাজার ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষের জন্যই বিপজ্জক।
জুরাইন লেভেল ক্রসিং থেকে পশ্চিম দিকে যত দূর চোখ যায়, রেললাইনের দুই পাশে কাঁচা তরিতরকারি, হাঁস-মুরগিসহ হরেক রকম পণ্যের সমারোহ। রেললাইন দেখা যায় না।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে এক ঘণ্টা পর পর ট্রেন চলাচল করে। রেলপথের দুই ধারে ঝুঁকি নিয়ে চলে বিক্রিবাট্টা। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়তের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে চারজন মারা যাওয়ার পরও জুরাইনে কোনো রকম উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি বলে লাইনের উভয় পাশের মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
মূল বাজারের চেয়ে দামে সস্তা, একসঙ্গে কিনলে কিছু শাক-সবজি, এমনকি ফলও ফাউ পাওয়া যায়। এ জন্য ক্রেতাদের সমর্থন পান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুরাইন রেললাইন ঘেঁষে বসা বিক্রেতারা। দিনে-রাতে অন্তত দুই হাজার ক্রেতা জুরাইন রেললাইন থেকে কাঁচা সামগ্রী কিনে থাকে—এমন তথ্য জানা যায় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে।
রেললাইনের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে, যেগুলোর রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট, তালপট্টি মার্কেট, মৎস্য মার্কেট, মুরগি হাট, ফার্নিচার মার্কেট ইত্যাদি। এগুলোর সামনেই রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান। সেখানে আছে তরিতরকারি, সব ধরনের ফল, পান, প্লাস্টিক সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। ‘ভাসমান’ বলা হলেও এখানে সকাল সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা বেচাকেনা চলে।
জুড়াইন প্রধান সড়কের দক্ষিণ প্রান্তে ফার্নিচার মার্কেটের সামনে রেললাইনের কাছে কাঠের সামগ্রীর অনেকগুলো দোকান সাজানো দেখা যায়। বেশির ভাগই অল্প দামি কাঠের সামগ্রীর। গত বছরের নভেম্বরে সেখানে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি।
গতকাল বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রান্ত থেকে ট্রেন আসছিল। দেখা গেল, সামনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের দ্রুত সরে যেতে বলছেন রেললাইন ঘেঁষে বসা বিক্রেতারা। নিউ সুপার মার্কেটের কাছাকাছি এলাকায় রেললাইনের ধারে বসা বিক্রেতা মো. ইসরাফিল জানান, জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে তিনি এখানে বসেন, অন্য কোথাও বসার জায়গা নেই।
সবজি, ফল, পান বিক্রেতাসহ অন্তত ১০ জন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে বসার জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ‘চাঁদা’ দিতে হয়। চাঁদার হার নির্ধারিত হয়, কতটুকু জায়গাজুড়ে দোকান সাজানো হয়েছে তার ভিত্তিতে। যে মার্কেটের সামনে দোকানঘর, সেই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতিকে টাকাটা দিতে হয়।
তবে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান বলেন, তিনি বা ব্যবসায়ী সমিতির কোনো সদস্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নেন। ব্যবসায়ী সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন সদস্য বলেন, ‘রেলের কিছু কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে অবৈধ বাজারের সীমানা আরও বেড়েছে। এলাকার থানা বা রেলওয়ে পুলিশ অবৈধ দোকানিদের কখনো বাধা দেয় না। অবৈধ বাজার উচ্ছেদের দায়িত্ব তাদেরই।’
জুরাইন বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুর রহীম বলেন, ‘ভাসমান বিক্রেতাদের বাধা দিলে “পাবলিক” ক্ষেপে যায়। কারণ এদের কাছে তুলনামূলক সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়।’
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তা নূরুন্নবী কবির দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, বিভিন্ন কারণে পুলিশ না পাওয়ায় বেশ কিছুদিন রেলের ধারের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। শিগগির আবারও অভিযান শুরু হবে। অভিযানে জুরাইনসহ নারায়ণগঞ্জ রুটের অবৈধ বাজারও উচ্ছেদ করা হবে।(ডেস্ক)